গাছ কাটা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে গাছ কাটার বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য তুলে ধরতে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সোমবার (১০ মে) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১১ মে) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সকাল ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে৷

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান  ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেড় শতাধিক গাছ কাটা পড়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনকারীরা৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই সমালোচনার ঝড় উঠে৷

এ বিষয়ে গত ৫ মে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর ব্যাখ্যা দেয়৷

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য-বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও ঘটনাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতোমধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রভৃতি নির্মাণ করা হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিকমানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।  এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ যেমন, পাকিস্তানি শাসনবিরোধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত ভাস্কর্য স্থাপন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেইন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির কার পার্কিং ও শিশুপার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গৃহীত মহাপরিকল্পনা  বাস্তবায়নে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কিছু গাছ কর্তন করা হলেও প্রায় এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে খণ্ডিত তথ্য প্রচারিত হওয়ায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

 

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এ  মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে দেশপ্রেমিক-সচেতন নাগরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।