ঢাকাশুক্রবার , ২৯ জুলাই ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি

হিজরী নববর্ষের গুরুত্ব ও ইতিহাস

Link Copied!

আহলান ওয়াসাহলান ইয়া শাহরুল মুহাররম। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে হিজরির নববর্ষের সঙ্গে মুসলমানদের তাহজিব ও তামাদ্দুন এর সম্পর্ক অপরিসীম। শুধু তাই নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে মুসলিম উম্মাহর পবিত্র জুমা, শবে মেরাজ, শবে বরাত, শবে কদর, রমজানুল কারীম, হজ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা সহ না না ভিধ ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান এবং আনন্দ উৎসব ও এবাদত বন্দেগী।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ইংরেজি নববর্ষ কিংবা বাংলা নববর্ষ, সর্ব জ্ঞ্যত অনুসারে সর্বমহলে যেমন ভাবে উদযাপিত হয় তার ছিটে ফোটাও হিজরী নববর্ষ মুসলিম উম্মাহ হিসেবে আমরা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি। হিজরী নববর্ষ শুধুমাত্র মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস এবং ঐতিহ্য লালন করে বিষয়টি এমন নয়, বরং ইসলামী আদর্শ রীতিনীতি অনুসারে হিজরী নববর্ষ পালনের মাধ্যমে প্রাপ্তি হওয়া যায় আল্লাহ প্রদত্ত অফুরন্ত সওয়াব।

অথচ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া প্রিন্ট মিডিয়া সোশ্যাল মিডিয়া যেমনিভাবে ইংরেজি নববর্ষ বা বাংলা নববর্ষ কে গুরুত্ব দিয়ে নানান মুখি আয়োজন এর মাধ্যমে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে থাকে তার আংশিক পরিমাণও হিজরী নববর্ষকে তারা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিটি দেশেই হিজরী নববর্ষকে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা একান্ত কাম্য।

হিজরী সন গণনা শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক এক অবিস্মরণীয় ঘটনাকে উপলক্ষ করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সঙ্গী সাথী-বর্গ মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আরবি মহরম মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস ধরে সাল গননা শুরু হয়েছিল । আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামগণ হিজরত করেন সেইথেকে হিজরী সনের সূচনা।

হিজরী সনের সূচনা, খোলাফায়ে রাশেদার শাসনকালে মদিনা কেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গোড়াপত্তন হলে অফিসিয়াল তথ্যাদি নথি ও দিনক্ষণের হিসাব রাখতে গিয়ে বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নররা বিপাকেও অসুবিধায় পড়েন যেহেতু তখন ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো বর্ষপঞ্জি বা একক সন চালু ছিল না রাষ্ট্রীয় বা অফিস কার্যাদি নির্বিঘ্নে ও যথা নিয়মে সম্পূর্ণ করার প্রয়োজনে নতুন সন প্রবর্তন তখন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর শাসনামলে প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাদি আল্লাহ তায়ালা আনহু, ইরাক এবং কুফার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একদা আবু মুসা আশয়ারী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু খালিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু খেদমতে পত্র লিখেন যে আপনার পক্ষ থেকে পরামর্শ কিংবা নির্দেশ সম্বলিত যেসব চিঠি আমাদের নিকট পৌঁছে তাতে দিন,মাস ,কাল, তারিখ ইত্যাদি না থাকায় কোন চিঠি কোনদিনের তা নিরূপণ করা আমাদের জন্য সম্ভব হয় না এতে করে আমাদেরকে নির্দেশ কার্যকর করতে খুব কষ্ট করতে হয় অনেক সময় আমরা বিব্রত বোধ করি চিঠির ধারাবাহিকতা না পেয়ে।

হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর চিঠি পেয়ে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এ মর্মে পরামর্শ সভার আহবান করেন এখন থেকে একটি ইসলামী তারিখ প্রবর্তন করতে হবে উক্ত পরামর্শ সভায় হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সহ শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কেরামগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত সকলের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে এই সভায় ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সিদ্ধান্ত দেন ইসলামী সন প্রবর্তনের। তবে কোন মাস থেকে বর্ষের সূচনা করা হবে তা নিয়ে পরস্পরের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়। কেউ মত পোষণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের মাস রবিউল আউয়াল থেকে বর্ষ শুরু করা আবার কেউ কেউ

মত পোষণ করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের মাস থেকে বর্ষ গণনা শুরু করা হোক, কারো কারো মতে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিজরতের মাস থেকে বর্ষ শুরু করা হোক, কেউ বলেন নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত ঘোষণার বছর

থেকে বর্ষ গননা শুরু করা হোক। এভাবে বিভিন্ন মতামত আলোচিত হওয়ার পর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের মাস থেকে হিজরী সনের গণনা শুরু করা যাবে না। কারণ খ্রিস্টান সম্প্রদায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাতু

ওয়াস সালাম এর জন্মের মাস থেকেই খ্রিস্টাব্দের গণনা শুরু করেছিল তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর জন্মের মাস থেকে বর্ষ সূচনা করা হলে ব্যাহত খ্রিস্টানদের অনুসরণ ও সাদৃশ্যতা হয়ে যায়, যা মুসলমানদের জন্য পরিত্যজ। আর অপরদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের মাস থেকেও গণনা শুরু করা যাবে না, এর কারণ এতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম

এর বিচ্ছেদ বেদনা আমাদের মাঝে বারবার উত্থিত হবে। পাশাপাশি অজ্ঞ যুগের মৃত্যুর শোক পালনের ইসলাম বিরোধী একটি কুপ্রথারই পুনরুজ্জীবন ঘটবে।

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্যকে হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এক বাক্যে সহমত পোষণ করেন এরই প্রেক্ষিতে অবশেষে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিজরতের ঘটনাকে মহিমান্বিত করার জন্য মহাররম মাস থেকে

হিজরী নামে একটি স্বতন্ত্র সন চালু করার ঘোষণা দেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জমাদিউল উলা ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হিজরী সন মোতাবেক ইসলামী তাহজিব তামাদ্দুন মেনে চলার এবং সেই সাথে পরিপূর্ণভাবে পবিত্রতার সাথে হিজরী নববর্ষকে বরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।আলবিদা আলবিদা ইয়া শাহরু জুলহাজ্জা।

পরিচালক: আল মোজাদ্দেদিয়া (এ .এম) ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com