স্কুলে নেই ছাত্র-শিক্ষক, বসেছে গরুর হাট

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

আইলো রে…’ বলে হুড়োহুড়ি করে এদিক-সেদিক ছুট দেয় একদল শিশু। রাস্তায় রিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের যাত্রীরা হতচকিত হয়ে সামনে তাকাতেই দেখতে পান রাস্তা দিয়ে একটি কালো রঙের ষাঁড় দৌড়ে আসছে। দড়ি ছিঁড়ে পালানো গরুটির পেছনে প্রাণপণে ছুটছেন দুজন রাখাল। বেশকিছু পথশিশু এ দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি রাখালদের সঙ্গে গরুর পেছনে ছুটতে শুরু করে।

কয়েক মিনিট পর খ্যাপাটে গরুটি নিয়ে রাখালরা রাস্তার পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের ফটকে এসে দাঁড়ান। গরুটি নিয়ে তারা যে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলেন সেখানে লেখা ‘সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৮২, ৩/৪ ধলপুর, ডিসিসি স্টাফ কোয়ার্টার, ঢাকা-১২০৩’। রাখালদের পিছু নিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখা মেলে স্কুল মাঠে বসা গরুর হাটের।

বুধবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ধলপুরে স্কুলের ভেতর জমজমাট হাটটি চোখে পড়ে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের।

মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে ও মোটা তাঁবু টানিয়ে সারি সারি অস্থায়ী খোঁয়াড় তৈরি করা হয়েছে। প্রথমেই চোখে পড়ে সামিয়ানার কোনায় হলুদ ব্যানারে লাল-নীল কালিতে মোটা করে লেখা ‘সামাদ ব্যাপারী, কুষ্টিয়া ৭০টি গরু। পাশেই একতলা ভবনের পাশে গরুর ব্যাপারীরা কেউ আধশোয়া, কেউ ঘুমাচ্ছেন আবার কেউবা গায়ে তেল মাখছেন। বড় বড় বস্তায় গরুর ভুসি ও ঘাসের স্তূপ সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

ওই হাটে গরু নিয়ে আসা একাধিক ব্যাপারী জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) সকালেই তারা গরু নিয়ে স্থানীয় গোলাপবাগ গরুর হাটে আসেন। কিন্তু ইজারাদাররা তাদের স্কুলের ভেতরে নিয়ে আসে। স্কুল দেখে প্রথমে ঢুকতে না চাইলেও ইজারাদাররা ‘কোনো সমস্যা হবে না,’ বলে আশ্বস্ত করলে বিক্রির জন্য আনা পশুগুলো নিয়ে স্কুল চত্বরে প্রবেশ করেন ব্যাপারীরা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা গত বছরের মার্চের পর থেকে আর স্কুলে আসে না। শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নেন। অনলাইনে ক্লাস নিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষার খাতা সংগ্রহের জন্য হাতেগোনা দু-একজন শিক্ষককে দেখা যায় স্কুলের ভেতরে।

অভিযোগ করে তারা জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্কুলে গরুর হাট বসারই কথা নয়। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে অপমান-অপদস্থ হতে হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, ‘২০ বছর ধরে চাকরি করছি। স্কুলে গরুর হাট দেখে লজ্জা লাগে। কিন্তু মানসম্মানের ভয়ে কিছু বলতে পারি না।’

ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইজারা পাওয়া হাটগুলোর একটি গোলাপবাগ মাঠের গরুর হাট। নিয়মানুসারে আগামী ১৭ জুলাই থেকে হাটের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা এবং নির্ধারিত গোলাপবাগ মাঠেই করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট বসার কথা।’

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘নির্ধারিত সময়ের চার দিন আগেই গরুর হাট বসে গেছে। গোলাপবাগ মাঠ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান সড়কে এমনকি স্থানীয় কাঁচাবাজার সংলগ্ন রাস্তায়ও রীতিমতো বাঁশের খুঁটি পুঁতে গরুর হাট বসেছে।’

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এলাকার প্রধান সড়কে নির্ধারিত সময়ের চারদিন আগে থেকে হাট বসানোর ফলে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। শুধু কি তাই? গরুর হাটকে স্কুলে পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করে হাট বসানো হয়েছে। কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই।’