সেপ্টেম্বরের আগে খুলছে না সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ১৯ আগস্ট থেকে দেশের পর্যটন কেন্দ্র খুললেও আগামী ১ সেপ্টেম্বরের আগে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র খুলছে না।

আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল প্রকার সাদা মাছ ও কাঁকড়া শিকার বন্ধ রাখার ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোও রয়েছে। ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করতে পর্যটকদের আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তবে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসলে পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৯ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় সাতমাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ছিল। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে গেলে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে গত ৩ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করে বনবিভাগ।

এরপর সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করা হয়। সেই থেকে এখনো বন্ধ রয়েছে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আযম ডেভিড বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের ১৯ মার্চ থেকে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। তবে মাঝে কিছু দিন পর্যটন কেন্দ্র খোলা ছিল। পরবর্তীতে এপ্রিলে ফের বন্ধ হয়ে যায় পর্যটন কেন্দ্র। যা এখনো বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ সুন্দরবন খুলবে কি-না সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। তবে, এবিষয়ে ১৬ আগস্ট ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের পক্ষ থেকে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

ডেভিড আরও জানান, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের তালিকাভুক্ত ৬৩টি ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। সবমিলিয়ে শতাধিক ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বেকার হয়ে গেছে। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাছের প্রজনন মৌসুম হলেও এবার জুন মাস থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মৎস্য শিকার ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাছ শিকারের জন্য পাশ পারমিট দেওয়া হবে। তবে পর্যটন কেন্দ্র খোলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র খুললেও সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ১৯ আগস্ট খুলছে না। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল প্রকার মাছ ও কাঁকড়া শিকার বন্ধ রাখার ঘোষণা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রও রয়েছে। ফলে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের আগে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে এরপর পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খুলনা আঞ্চলিক বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে সুন্দরবন খোলার ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। ফলে ১৯ আগস্ট সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র খোলার সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসলে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে। এ জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।