সিকান্দার হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের গ্রেফতার ৩

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

কক্সবাজার সদরস্থ পিএমখালী ইউনিয়নের জুমছড়ি চেরাংঘর বাজারে জমির বিরোধে খুন হওয়া সেকান্দর আলী (৫০) হত্যার ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত সিকান্দর আলীর স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪০) বাদী হয়ে ১২ জনের নাম ঠিকানা উল্লেখ পূর্বক ও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করে ২৫ তারিখ শুক্রবার এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন-১। রহমত উল্লাহ (৩২) পিতা- রশিদ আহমদ, ২। সালিম উল্লাহ (৩০),পিতা- রশিদ আহমদ, ৩। লালমিয়া (৪৫) মৃত আবুল হোসেন, ৪। রহিমুল্লাহ (২৮) রশিদ আহমদ, ৫। মুহাম্মদ সোহেল (২৮) পিতা আব্দুল হক, পরনিয়াপাড়া, ৬। রশিদ আহাম্মদ পিতা- মৃত আমির হোছন, ৭। সিরাজুল ইসলাম (৪০) পিতা- মনির আহমদ, ৮। মোরশেদ পিতা- মনির আহমদ, ৯। নুরুল ইসলাম প্রকাশ লুলুমিয়া (৫০) পিতা- মৃত সুলতান, ১০। মনির আহমেদ(৫০) পিতা আমির হোসেন, ১১। মোঃ রায়হান (২০) পিতা- লাল মিয়া, ১২। মোঃ ইসমাইল (৩৪) পিতা-মৃত কালু ‍মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিহত সিকান্দার আলী ও রশীদ আহমদ গ্যাং এর সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার দিন গত ২৪ তারিখ রশিদ আহমদ সওদাগর তার দলবল নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে স্থানীয় চেরাংঘর বাজারের দক্ষিণে মেইন রোড সংলগ্ন একাধিক অংশীদারিত্ব থাকা বিরোধ পূর্ণ একখন্ড জমিতে সীমানা প্রাচীর দিয়ে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে নিহত সিকান্দার সহ অন্যান্য কয়েক জন অংশিদার বাঁধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটির পর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সময়ে হামলার প্রস্তুতি নিয়ে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা রশিদ আহমদ গ্যংয়ের হাতে সিকান্দার সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার গুরুতর আহত সিকান্দারকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেয়। মেডিকেল হাসপাতালে পৌছার ২/১ ঘন্টার পর সিকান্দারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান নিহতের স্বজনেরা।
মামলার বাদী রাশেদা বেগম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এ ময়নাতদন্ত শেষে এলাকায় আনার পর শুক্রবার রাতেই লাশ দাফন করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, পিএমখালীর নিহত সিকান্দারের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, হত্যার ঘটনা সম্পর্কে
কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মনিরুল গীয়াস “ওসি কক্সবাজার থানা” নামের এক ফেসবুক আইডি’তে লিখেছেন, (হুবহু পাঠকের জন্য উল্লেখিত) কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংগা বাজারে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সেকান্দার (৫০), পিতা-মৃত কালা মিয়া, সাং-পূর্ব জুমছড়ি ও রশিদ আহমেদ (৫৫), পিতা-মৃত আমির হোসেন, সাং-সাতঘরিয়া পাড়া, উভয় থানা ও জেলা-কক্সবাজারদের মধ্যে বিগত ৪/৫ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। উভয় পক্ষ বিরোধ পূর্ণ জায়গাটি নিজেদের দাবী করে আসছিল।
২৪/০৬/২০২১ ইং তারিখ সকাল অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় রশিদ আহমেদগণ লোকজন নিয়ে উক্ত বিরোধপূর্ণ জায়গায় টিনের বাউন্ডারি দিতে গেলে সেকান্দার ও তার আত্মীয় স্বজন জানতে পেরে বাঁধা দিলে রশিদ আহমেদ(৫৫), তাহার ছেলে রহিম উল্লাহ(১৮), ছলিম উল্লাহ(২০), রহমত(২৪) এবং সোহেল(২৫), পিতা-আব্দুল হকসহ আরো অনেকে সেকান্দার গ্রুপের উপর লোহার রড, হকস্টিক, ধারালো দা, কিরিচ নিয়ে আক্রমন করে। তাদের আক্রমনে সেকেন্দার আলী (৫০) মাথায় লোহার রড ও গলায় ধারালো “দা” দ্বারা মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হয়। এছাড়া সেকান্দার গ্রুপের নুরুল ইসলাম(৫৫), মোঃ সাহেদ(১৫), বেদার মিয়া(২২), শাহ আলম(২৩)গণ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম প্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে গুরুত্বর জখম প্রাপ্ত সেকান্দার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান।
অন্যান্য জখম প্রাপ্তদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়। খবর পেয়ে অফিসার ইনচার্জ, কক্সবাজার সদর মডেল থানার নেতৃত্ত্বে একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায়।  ঘটনা সংক্রান্তে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম সেকান্দার আলী(৫০) গত ২৪/০৬/২০২১ ইং তারিখ ১৮.০০ ঘটিকায় মৃত্যু বরণ করেন।
আলোচ্যে বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলা নং-৫৮, তাং-২৫/০৬/২১ ইং, ধারা-১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
ঘটনার সাথে জড়িত আসামী ১। সোহেল(২৫), পিতা-আব্দুল হক, সাং-পরানিয়া পাড়া, ২। সিরাজুল ইসলাম (৪০), পিতা-মনির আহমমদ, সাং-উত্তর নুনিয়ারছড়া, ৩। মোঃ ইসমাইল (৩৪), পিতা-মৃত কালু ‍মিয়া, সাং-বাহারছড়া, সর্বথানা ও জেলা-কক্সবাজারকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য একাধিক টিম কাজ করছে।