রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মুগদা হাসপাতাল

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

প্রতিনিয়ত করোনা আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে ছুটে আসছেন রোগীরা। রোগীর চাপে হাসপাতালের সব ধরনের বেড পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে ‘দুঃখিত, বিছানা খালি নাই’ লেখা নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থা রাজধানীর করোনা ডেডিকেটেড ৫০০ শয্যার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই এ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীরা চিকিৎসা নিতে ছুটে আসছেন। গত মাসের শেষ দিক থেকে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। ফলে ২৭ জুলাই থেকে প্রতিদিনই ‘বিছানা খালি নেই’ এমন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা গেছে, করোনা উপসর্গ নিয়ে জরুরি বিভাগে একের পর এক রোগী আসছেন। পরিস্থিতি বুঝে কাউকে প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের মধ্য থেকে কিছু ভর্তি নেয়া হচ্ছে। বিছানা না থাকায় ভর্তি প্রয়োজন এমন অনেক রোগী অপেক্ষায় থাকছেন বা অন্য হাসপাতালে বিছানার খোঁজে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন ৩৪ জন। এর মধ্যে ২২ জন নারী ও ১২ জন পুরষ। এদের মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি রেখে বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসাপত্র দিয়ে বাসায় চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ভর্তি ১০ জনের মধ্যে আটজন নারী। যাদের মধ্যে ছয়জনের করোনা ‘পজিটিভ’ এসেছে। বাকি দুজন এসেছেন উপসর্গ নিয়ে। অন্যদিকে চিকিৎসা নিতে আসা ১২ জন পুরুষের মধ্যে চারজনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এদের মধ্যে দুজনকে ভর্তি রেখে, বাকিদের বাসায় চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

jagonews24

হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে রোগীরা অপেক্ষা করছেন। অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে কেউ কেউ জরুরি বিভাগের সামনে রাখা বেঞ্চেই শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ থেকে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ফজর আলী বলেন, ‘দুদিন ধরে মেয়ে অসুস্থ, জ্বর-কাশি। তাই এখানে নিয়ে এসেছি। আধঘণ্টার ওপর হয়ে গেছে, এখনও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষায় আছি। দূর থেকে এসেছি, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’

হাসপাতালটিতে ছেলেকে নিয়ে আসা ওমর শেখ বলেন, ‘ছেলে চারদিন ধরে অসুস্থ। কিছুতেই ভালো হচ্ছে না। ফার্মেসি থেকে পরামর্শ নিয়ে বাসায় ওষুধ খাওয়াচ্ছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এখানে নিয়ে আসলাম, ডাক্তার কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে বাসায় চিকিৎসা নিতে বলেছেন। ভর্তি করে নেয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। কিন্তু এখানে ভর্তির মতো কোনো বেড নেই।’

কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে ২৪টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর সবগুলোতে এখন রোগী ভর্তি। ৩২০টি সাধারণ বেডের সবগুলোতে রোগী ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. মারুফ হোসেন শিকদার বলেন, ‘প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীর চাপ এতই বেশি যে, আমাদের কোনো বেড খালি থাকছে না। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে বেড খালি নেই, এমন সাইনবোর্ড ঝুলাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগীর যতই চাপ থাকুক আমাদের চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে কোনো অবহেলা করছেন না। চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা- সবাই রোগীদের সুস্থ করে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আমাদের অনেক সহকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’