ঢাকাশুক্রবার , ১৪ অক্টোবর ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবদরদি মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

Link Copied!

মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার সুন্দর ও শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি হলো মানুষ। মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সকল সুন্দর চরিত্রের অধিকারী এক মহামানব হযরত আহমাদ মুজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যিনি হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। পৃথিবীতে সকল সুন্দর চরিত্র ও সর্ব উত্তম আখলাক এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মান্যবর মানব জাতির অতুল্য ও অমূল্য অসংখ্য সুন্দর বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ গুণ বা মানবীয় বৈশিষ্ট্য হলো মানবতা, মানবিকতা, মানুষের প্রতি মানুষের রিক্ততা, ভালোবাসা, বদান্যতা এই সকল কিছুর মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:)

যার ছিল সকল সৃষ্টির প্রতি এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, দয়া, রহমত, দরদ, বিশ্বে এমন মানব দরদী ও মানবিক চরিত্রের অধিকারী দ্বিতীয় একজন হয়নি আর হবেও না।

অন্ধকার যুগের পশুসুলভ জীবনাচার ও জুলুম, নির্যাতন , নিপীড়ন, সামাজিক অন্যায়, অত্যাচার, অনাচার, অবিচারের তমসা থেকে মানবতাকে মানবসভ্যতার আলোর দিকে এগিয়ে নিতে তিনি ভোরের সমীরন প্রবাহ সঙ্গে নিয়ে প্রভাত রবির রঙিন আলোয় সকালের সূর্যের হাসি হয়ে ঊষার আকাশে উদিত হলেন অপার রহমত, ভালোবাসা, আর দরদ নিয়ে মানবদরদি মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

স্বমহিমায় উজ্জ্বল বিশ্বশান্তির অনন্য এই মহামানবের বর্ণাঢ্য জীবন আদর্শ থেকে পাওয়া যায়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা রিক্ততা কত বেশি আর কত উদার মহিমার ছিল। তার-ই সুন্দর সুশ্রী সু-উজ্জ্বল অনুপম জীবনাদর্শ থেকে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো।

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স:) একদা সাহাবীগণকে নিয়ে বসে আছেন এমতাবস্থায় কিছু সংখ্যক ইহুদি লোকজন তাদের-ই স্বজাতীয় এক ইহুদী ব্যক্তির লাশ বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। ওই সময় রাসুল (স:) সম্মিলিত সাহাবীগণকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি বসলেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত লাশবাহী লোকজনকে দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল। অতঃপর হযরত জাবের (রা:) বলতে লাগলেন হে আল্লাহর রাসূল (স:) বহনকৃত লাশটি একজন ইহুদীর। জবাবে রাসূল (সা:) বললেন তাতে কি হয়েছে সে কি মানুষ নয়? কি অসম্ভব সুন্দর আদর্শের একমূর্ত প্রতীক মানবদরদি হযরত মুহাম্মদ( স:) মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর দরদ দেখাতে তিনি এক মুহূর্তের জন্য কুন্ঠা বোধ করতেন না। যার প্রমাণ ভিন্ন ধর্মাবলম্বী অতি সাধারন একজন মানুষের মৃত লাশকে পর্যন্ত তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দাঁড়িয়ে সম্মানের মাধ্যমে দরদ ভরা কন্ঠে তিনি বলেছিলেন সেও মানুষ।

শুধু তাই নয়, মুসলিম উম্মাহর পবিত্র ইবাদাতের স্থান মসজিদের মধ্যে একদা এক আরব বেদুইন মূত্র বিসর্জন করতে লাগলেন। তাও আবার মসজিদে নববীতে, যেটি কিনা মসজিদে হারাম এর পরবর্তী মুসলিম উম্মাহর হৃদয় জুড়ে রয়েছে। উপস্থিত সাহাবীগণ তাকে বাধা প্রদান করতে গেলে, রাসুল (স:) তাদেরকে নিষেধ করে বললেন তোমরা তাকে বাধা দিও না, কেননা মূত্র বিসর্জনে বাধাপ্রাপ্ত হলে শরীরের ক্ষতি হয়। এবং তার মূত্র বিসর্জন পরবর্তী স্বয়ং রাসূলে কারীম (সা:)নিজেই পানি ঢেলে অপবিত্র স্থানটুকু পবিত্র করে দেয়। একজন মুসলিম হিসেবে মসজিদ আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পবিত্র স্থান হওয়া সত্ত্বেও মূত্র বিসর্জনে বাধা প্রদানে তার শরীরের ক্ষতি হবে শুধুমাত্র এই বিবেচনায় এবং মানবীকতা আর দয়ার দয়াদ্রতাকে প্রাধান্য দিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ও মার্জিত ভাষায় ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরে আরব বেদুইন কে বুঝিয়ে দিয়েছে। আর তা দেখেই বেদুইন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিলেন।

বিশ্ব মানবতার মহান দরদী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতিতে কোন মানুষ কষ্ট অনুভব করবে এটি যেন তাঁর সুমহান আদর্শের খেলাফ। তাইতো, মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন।

তোমাদের নিকট আগমন করেছে তোমাদেরই মধ্য হতে এমন একজন রাসুল যার কাছে তোমাদের ক্ষতিকর বিষয় অতি কষ্টদায়ক। যিনি হচ্ছেন তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল করুনা পরায়ন। (সূরা তাওবা আয়াত 128)
আলোচ্য আয়াত থেকে প্রমাণিত প্রিয় নবী(স) মানুষের জন্য কত বেশি দরদী ছিলেন। কেউ কোন বিষয়ে কষ্ট পেলেই তিনি কষ্ট অনুভব করতেন। রাসুলুল্লাহ (স) এরশাদ করেন। যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি সদয় হয় না, মহান আল্লাহ তায়ালা ও তার প্রতি সদয় হন না। (সহি বুখারী ও মুসলিম) সৃষ্টি জগতের প্রতি দয়া প্রদর্শনে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। কারণ পুরো সৃষ্টি জীব, মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতের অন্তর্ভুক্ত এবং মানুষ তারমধ্যে শ্রেষ্ঠ।

অথচ, মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতের শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মানবীয় মূল্যবোধ মানুষের প্রতি দয়া, ভালোবাসা, একে অন্যের প্রতি দরদ ক্রমশই সীমিত হয়ে আসছে। যাহা মানবীয় মূল্যবোধকে অস্তিত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা যদি রাসুলুল্লাহ( স:) সুমহান জীবনাদর্শের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই একদা এক ব্যক্তি রাসুল(স ) এর দরবারে আগমন করলেন অতঃপর সে তার গোত্রের আর্থিক অভাব অনটন দূর করার জন্য অনুরোধ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) একপাল বকরি তাকে ও তার গোত্রের লোকজনকে দান করলেন। নবী করীম (সা) এর এমন উদরতা আর মানবতা দেখে আগত সকল লোকজন ইসলাম কবুল করে নিলেন।

এমনকি আমরা যদি লক্ষ করি মানবদরদে সর্বদা যে ব্যক্তির দয়াদ্র এমন ব্যক্তিকে ও মহানবী (স ) শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন এবং তাদের খেয়াল রাখতেন। একদা তাঈ নামক গোত্রের লোকজন মহানবী (সা) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। যুদ্ধে পরাজিত অবস্থায় যুদ্ধবন্দি হিসেবে মহানবী( স) এর দরবারে বন্দি সকলকে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে আরবের একজন প্রসিদ্ধ দাতা হাতেম, তার কন্যাসহ তাদেরকে উপস্থিত করা হয়। এমতাবস্থায় হাতেম কন্যা দাঁড়িয়ে বললেন হে আল্লাহর রাসূল(স) আমি হাতেম তাঈ এর কন্যা। তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাকে ও তার গোত্রের সকল মানুষকে সম্মান করলেন এবং তার সুপারিশ ক্রমে তার গোত্রের সকলকেই তিনি মুক্ত করে দিলেন। কেননা হাতেম তাঈ একজন দানবীর ও পরোপকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন,শুধুমাত্র এই বিবেচনায় (সীরাতে হালাবিয়া তৃতীয় খন্ড 227 পৃষ্ঠা)

আলোচিত ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে, যে সকল ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া ভালোবাসা দয়াদ্র মনোভাব পোষণ করেন রাসুলুল্লাহ (স) তাদেরকে ভালোবাসেন এবং তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি মার্জনা করেন।

সর্বদা মানুষের কল্যাণ কামনায়-ই যেন তাঁর আগমন। সকল ধরনের মানুষের কল্যাণ কামনা-ই ছিল নবী কারীম (সা)এর অনন্য এক গুণ। তিনি মানুষকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন মানুষের অকল্যাণ দেখে তিনি ব্যথিত হতেন। কোন মানুষ আল্লাহর প্রতি উদাসীন থেকে নিজের জীবন বরবাদ করুক তাহা তিনি চাইতেন না। তাই তিনি প্রতিটি মানুষকে আল্লাহর পথে আনার জন্য বারবার তাদের নিকট যেতেন। তাঁর ভালোবাসা দরদ আর মানুষের কল্যাণের মাধ্যমে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরতেন।

রাসুলুল্লাহ (স) ছিলেন সর্বদা মানবদরদি ব্যক্তিত্ব, সমাজের বঞ্চিত,শোষীত, নির্যাতিত-নিপীড়িত অসহায় মানুষের জন্য তার অন্তর ছিল সদা বেকুল। আত্মীয় অনাত্মীয় সকল অভাবী মানুষের পাশে দেখা যেত তাকে। তিনি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং তাদের বিপদমুক্ত করার জন্য চেষ্টা করতেন। অত্যাচারিত মনিবের হাত থেকে ক্রীতদাসদেরকে মুক্ত করার জন্য তিনি অকাতরে অর্থ ব্যয় করতেন। ঋণের ভারে জারা নূয়ে পরতো তাদেরকে ঋণ থেকে মুক্ত করার জন্য সাহায্য করতেন। কারো অসুস্থতার কথা শুনলে তাকে দেখতে যেতেন এবং তাকে সেবা-শুশ্রূষার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতেন। মুসলিম অমুসলিম সকলের প্রতি তাঁর দরদ ভালোবাসা ছিল অকৃত্তিম।

বিশ্ব মানবতার মহান দরদী মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বর্ণাঢ্য জীবন আদর্শ কে আমরা যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে পারি এবং মানুষের প্রতি দয়া ভালোবাসা দরদ ও মানবীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে চলতে পারি মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করেন। আমিন।

পরিচালক:আল মোজাদ্দেদিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com