ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না টিকা

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

রাজধানীর একটি গার্মেন্টসে কাজ করা নাছিমা আক্তার কোভিড-১৯-এর টিকা নিতে সোমবার ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়ান রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তার ভাগ্যে টিকা মেলেনি। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তেজিত হয়ে চিল্লাচিল্লি করতে করতে কেন্দ্রের সামনে থেকে চলে যান এই পোশাক-শ্রমিক।

এ সময় তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, গতকাল সকাল ৭টার সময় এসে লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু তার আগেই অনেকে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে গতকাল তিনি টিকা নিতে পারেননি। এ কারণে আজ ভোর ৫টার সময় এসে লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু আজও তার ভাগ্যে টিকা মেলেনি।

তিনি বলেন, এখানে প্রতিদিন দেড়শ জন নারী ও দেড়শ জন পুরুষকে টিকা দেয়া হয়। যারা দায়িত্বপালন করছেন তারা পরিচিতদের ডেকে ডেকে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন। আর আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা নিতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, দু’দিন লাইনে দাঁড়িয়েও ফিরে যাচ্ছি। এখন আবার কাল আসতে বলেছে। টিকা নিতে হবে, কিছু তো করার নাই। আমাদের কথা কেউ শোনে না। অবস্থা এমন- জোর যার মুল্লুক তার।

শুধু নাছিমা নয় রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিকা নিতে এসে হতাশ হতে হয়েছে হাজারের অধিক নারী-পুরুষকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও একপর্যায়ে তারা ফিরে যান।

সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত দুই হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সাড়ে ৯টার দিকে তাদের মধ্য থেকে দেড়শ জন নারী ও দেড়শ জন পুরুষকে ভেতরে ঢুকিয়ে নেয়া হয়। বাকিদের জানিয়ে দেয়া হয়- আজ আর টিকা পাওয়া যাবে না, আগামীকাল আবার আসতে হবে।

টিকাকেন্দ্রের গেটে দায়িত্বপালন করা একজন কর্মী বলেন, এখানে একদিনে মোট ৩০০ জনকে টিকা দেয়া হয়। সে হিসাবে আমরা দেড়শ জন নারী ও দেড়শ জন পুরুষকে ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়েছি। যারা আগে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারাই ভেতরে ঢুকতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

রামপুরার উলন রোড থেকে টিকা নিতে আসা রইস উদ্দিন বলেন, সকাল ৬টার আগে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন (সকাল সাড়ে ৯টা) বলছে আজ আর পাওয়া যাবে না। টিকা নিতে হলে আগামীকাল আবার আসতে হবে। প্রথম দেড়শ জনের মধ্যে লাইনে থাকলে টিকা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষকে শুধু হয়রানি করা হচ্ছে। গতকাল দেখেছি হাজারের বেশি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। আজও একই অবস্থা। যারা আসছেন তাদের বেশিরভাগ টিকা পারেন না। তাহলে এমন ক্যাম্পেইন চালিয়ে লাভ কি- প্রশ্ন করেন তিনি।

ফারিয়া নামে এক টিকা গ্রহণেচ্ছু বলেন, গতকাল ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে আমার ভাইয়া টিকা নিয়ে গেছে। আমি আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার সামনে দেড়শ-দুইশ মতো মানুষ ছিল। ভেবেছিলাম টিকা নিতে পারব। কিন্তু আমার আগে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই টিকা পাননি। এখন আমাদেরকে আবার কাল আসতে বলা হচ্ছে। কাল আবার আসব, জানি না টিকা পাব কি-না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ধরনের হয়রানি। তাছাড়া টিকা নিতে এসে মানুষের যেমন ভিড় হচ্ছে তাতে সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এভাবে মানুষকে হয়রানির না করে, সহজভাবে কীভাবে টিকা দেয়া যায় সেই পথ খোঁজা উচিত।