ভৈরবে মেঘনা ফেরিঘাটে চার প্রতিষ্ঠানের ইজারা, সংঘর্ষের আশঙ্খা

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা ফেরিঘাটে সরকারি চার প্রতিষ্ঠানের ইজারা ডাক নিয়ে কয়েকদিন যাবত চরম দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা। গত দুদিন যাবত দুটি পক্ষের মধ্য চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ দ্বন্দ্ব যে কোন সময় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান। অপরদিকে চার প্রতিষ্ঠানের টোল পরিশোধে ব্যবসায়ীরা হয়রানীর শিকারসহ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ভৈরব মেঘনা ফেরিঘাটে প্রতি বছর রেলওয়ে মুরিং ঘাট ইজারা দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ একই স্থানে নদীপথ ইজারা দেয়। আবার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউএনও ঘাটের টোল আদায়ে ইজারা দেয়। এছাড়াও খেয়াঘাট ইজারা দেয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস থেকে।

এ বারের অর্থ বছরে জেলা পরিষদের ইজারা ডাক পায় কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজনু সওদাগর, রেলওয়ে মুরিং ইজারা ডাক পায় যুবলীগের নেতা মো. আরমান উল্লাহ। বিআইডব্লিউটিএ ইজারা ডাক পায় আরমান উল্লাহর বড় ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেফাতউল্লাহ। খেয়াঘাটের ইজারা ডাক পায় আশুগঞ্জের এক ব্যক্তি, তবে তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমার পাটনার আছে।

আগে বিআইডব্লিউটিএ’র সীমানা ছিল প্রতিষ্ঠানের জেটির ৫০ গজ। এবারের ডাকে সীমানা নির্ধারণ করা হয় ৫০০ মিটার। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে রেলওয়ে ইজারাদারের সাথে। এ বিষয় নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত উভয় পক্ষের মধ্য চলছে মহড়া ও উত্তেজনা। ৪-৫ শ লোক নিয়ে মেঘনা ফেরিঘাটে টোল আদায় নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে একটি ঘাটে ব্যবসায়ীরা কতটি প্রতিষ্ঠানকে টোল দিবে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ ইউএনও’র কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে আরমান উল্লাহ জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ইজারার সীমানায় মেঘনা ফেরীঘাট পুরা এলাকা। বিআইডব্লিউটিএ বেআইনিভাবে ৫০ গজের স্থলে ৫০০ মিটার জায়গায় টোল আদায়ের নিলাম দিয়েছে যা মন্ত্রণালয়ের কোন সিদ্ধান্ত নয়।

শেফায়েত উল্লাহ জানান, বিআইডব্লিটিএ ইজারায় আমাকে ৫০০ মিটার সীমানা দিয়েছে। সেই অনুযায়ী আমি সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় ডাক পেয়েছি। সীমানা কম হলে ইজারার ডাক এতো দিতাম না। এ কারণে ৫০০ মিটার পর্যন্ত আমি মালামাল থেকে টোল আদায় করব।

ভৈরব কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজনু সওদাগর জানান, আমি জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে নৌকা বা মালামাল থেকে কোন টোল আদায় করি না। ইজারার ডাকের টাকা সমিতি থেকে বহন করি। কারণ একটি ঘাটে চার প্রতিষ্ঠানের খাজনা দিতে দিতে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ ও হয়রানির স্বীকার হয়।

খেয়াঘাটের প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, যুগ যুগ ধরে খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায় হচ্ছে। আমাদের সাথে তাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা জানান, মেঘনা ঘাটে চার প্রতিষ্ঠানের ইজারা ডাক রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ ৫০ গজ সীমানার মধ্য হঠাৎ এবার ৫০০ মিটার সীমানা দিয়ে ডাক দিয়েছে। আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া তারা এ কাজটি করতে পারে না। তাদের কারণে দুই পক্ষের মধ্য বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ আমার কাছে দরখাস্ত দিয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসব।