বাজার করতে শ্যামলী থেকে যাচ্ছিলেন ঠাটারি বাজার!

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমনের ঊর্ধ্বগতি ও মৃত্যুরোধে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী বিধিনিষেধের পঞ্চমদিন সোমবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। গত চারদিনের তুলনায় এদিন বিভিন্ন সড়কে অধিকসংখ্যক প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, জিপগাড়ি, ছোট-বড় লরি, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতিও বেড়েছে। তবে কোনো কোনো রাস্তা একেবারেই জনশূন্য দেখা যায়।

আজ থেকে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলায় রাস্তায় যানবাহন ও লোকজনের যাতায়াত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। জরুরি প্রয়োজনের পাশাপাশি রাস্তায় নানা অজুহাতে যানবাহন ও পায়ে হেটে বের হওয়া মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয় বলে তারা জানান। এ কারণে বিভিন্ন চেকপোস্টে অহেতুক বের হওয়া যানবাহনকে পুলিশের মামলা দিতেও দেখা গেছে।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে একাধিক থানা এলাকা ঘুরে এসব দৃশ্যে দেখা গেছে।

বেলা আনুমানিক ১১টায় শাহবাগ মোড়ে যানবাহনের খুব বেশি চাপ লক্ষ্য করা যায়। চেকপোস্ট বসিয়ে শাহবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নুরুন্নবী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সায়েন্সল্যাবরেটরি ও নীলক্ষেত কাঁটাবন থেকে আসা প্রায় প্রতিটি গাড়িকে বাইরে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করছিলেন। সন্তোষজনক জবাব পেলে ছেড়ে দিচ্ছিলেন আর না পেলে গাড়ি একপাশে দাঁড় করাতে বলে ট্রাফিক সার্জেন্টকে আইন অনুযায়ী মামলা দেয়ার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলায় রাস্তায় যানবাহনের চাপ গত চারদিনের চেয়ে বেশি দেখা গেছে। তবে বেশিরভাগ যানবাহনই জরুরি কাজে বের হচ্ছে। তবে কেউ কেউ নানা অজুহাত দেখিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘সকালেই একটি প্রাইভেটকারের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি তার অসুস্থ মামাকে আনতে যাচ্ছেন বলে জানান। এ সময় তার মাামকে ফোন করে জানতে চাই তার ভাগ্নেকে চেনেন কিনা। হ্যাঁ সূচক জবাব দেয়ার পর তার বোনের নাম জানতে চাই, তবে তিনি তার বোনের নাম বলেতে পারেননি। আবার দেখা গেছে, একজনের বাসা শ্যামলীতে। বাইরে গাড়ি নিয়ে কেন বের হয়েছেন জানতে চাইলে ঠাটারি বাজারে করতে যাচ্ছেন বলে জানান।’ এমন নানা অজুহাতে বের হওয়া যানবাহন মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তবে কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সকল যৌক্তিক কারণ দেখানোর পরও খালি গাড়ি পেলেই পুলিশ মামলা দিচ্ছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চালক তাদের এক কর্মকর্তাকে আনতে সিদ্ধেশ্বরী যাচ্ছিলেন। পথে ট্রাফিক পুলিশ তাকে ১ হাজার ২০০ টাকার মামলা দিয়েছে বলে জানান তিনি।