পাম অয়েল বিক্রিতে আবারো শর্ত জুড়ে দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১ মাস আগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্থানীয় বাজারে পাম অয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে আবারো শর্ত জুড়ে দিতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। সম্প্রতি দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশটি রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পরদিনই এ ঘোষণা এসেছে। এ শর্তের অধীনে স্থানীয় উৎপাদকদের রফতানির জন্য নির্ধারিত পাম অয়েল থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সরকারকে সরবরাহ করতে হবে। তবে কতটুকু সরবরাহ করতে হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

জোকো উইডোডোর সরকার গত নভেম্বর থেকে পাম অয়েল-সংক্রান্ত পলিসিতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন এনেছে। সর্বশেষ গত এপ্রিলের শেষ দিকে পণ্যটি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে যাওয়ার কারণে লোকসানের অভিযোগ করেন। মার্জারিন থেকে শুরু করে শ্যাম্পু তৈরিতে পাম অয়েল ব্যবহার হয়। কিন্তু বৈশ্বিক ভোজ্যতেলের এক-তৃতীয়াংশই আসে এটি থেকে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই সরবরাহ করে ইন্দোনেশিয়া।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ১৪ হাজার রুপিয়ায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দাম ১৭ হাজার রুপিয়ায় অবস্থান করছে। নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতি লিটারের দাম ১৯ হাজার রুপিয়ারও বেশি ছিল। অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যারলাঙ্গা হারতার্তো বলেন, সরকার আবারো ডমিস্টিক মার্কেট অবলিগেশন (ডিএমও) আরোপ করবে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে অন্তত এক কোটি টন পাম অয়েল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

ডিএমওর অধীনে প্রত্যেক পাম অয়েল উৎপাদককে রফতানির জন্য নির্ধারিত পাম অয়েল থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বাধ্যতামূলক বিক্রি করতে হয়। কী পরিমাণ তেল সরকারকে সরবরাহ করতে হবে তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে। জানুয়ারিতে কোম্পানিগুলোর ওপর ২০ শতাংশ পাম অয়েল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয়া হয়। মার্চে তা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। মূলত অনুকূল আবহাওয়া ও প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা এতে সহায়তা করছে। সম্প্রতি দেশটির পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (গাপকি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় ৪ কোটি ৮০ হাজার টন পাম অয়েল উৎপাদন হতে পারে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৪ কোটি ৬৯ লাখ টন। সে হিসেবে উৎপাদন ১১ লাখ টন বাড়বে। এদিকে উৎপাদন বাড়লেও কমছে ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েলের রফতানি চাহিদা। চলতি বছর চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ কোটি ৯৮ লাখ টনে নামতে পারে। ফলে পণ্যটির মজুদ বেড়ে ৭০ লাখ টন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন গাপকির নির্বাহী চেয়ারম্যান তোগার সিতাংগাং।