নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত : নৌপ্রধান

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১ বছর আগে

প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা ও পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি ত্রিমাত্রিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল।

রোববার (২৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের নেভাল অ্যাকাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০১৮/বি ব্যাচ ও ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার (ডিইও) ২০২১/এ ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শাহীন ইকবাল বলেন, গত প্রায় এক দশকে নৌবহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটসহ আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজিত হয়েছে। সম্প্রতি নতুন ছয়টি যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে কমিশনিং করা হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও উন্নত জাহাজ এবং আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণাধীন ঘাটিসমূহের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডগুলোর আধুনিকায়নের কাজও চলছে।

বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়োচিত বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে এখন পর্যন্ত অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রণীত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নৌ-সদস্যদের জন্য টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্যোগময় এ পরিস্থিতির মধ্যে নবীন কর্মকর্তারা তাদের মনোবল অক্ষুণ্ন রেখে যে উন্নত প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, নৌপ্রধান তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে কঠোর এ প্রশিক্ষণ প্রদানে যেসব কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও নৌ-সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নৌপ্রধান বলেন, আজকের নবীন কর্মকর্তারা নেভাল অ্যাকাডেমি থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবেন। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে।

এ সময় তিনি পেশা হিসেবে দেশ সেবার এ পবিত্র দায়িত্বকে বেছে নেয়ায় নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলাবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। পরিশেষে নৌপ্রধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে নৌপ্রধান স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর নৌ-সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৮/বি ব্যাচের ৪৭ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২১/এ ব্যাচের ১৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ সর্বমোট ৬৫ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে নয়জন নারী কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এবারের কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে মিডশিপম্যান ২০১৮/বি ব্যাচের সাইফ খান বিজয় সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। মিডশিপম্যান মো. আবুল কাশেম প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌপ্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২১/এ ব্যাচ হতে অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মো. মেহেদী হাসান তুহিন শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

এছাড়া নবীন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ পড়ানো ও র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নৌঅঞ্চলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।