নওগাঁয় যেভাবে ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘার্টন পূর্বক দু’জনকে আটক করলো পুলিশ

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১ বছর আগে

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ

নওগাঁর রাণীনগরে একটি ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশের হাতে আটক দু’জন ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন, এছাড়াও মৃতদেহ বহনকারী একটি পিকআপ জব্দ করেছে পুলিশ।
রবিবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য মিডিয়াকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন, নওগাঁর সুযোগ্য জেলা পুলিশ সুপার জনাব প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার জানান- গত১৯ এপ্রিল নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ধনপাড়া গ্রামের একটি পুকুরে এলাকাবাসি প্লাষ্টিকের একটি ড্রামের ভিতর অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট অন্তে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ সুপার আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে রাণীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে সেই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়। নিহতের নাম শহীদুল ইসলাম। নিহত শহিদুল ইসলাম নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাউল্লা্যপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। পরে নিহতের পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, শহীদুল ইসলাম ১লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ট্রাক্টর কেনার জন্য নওগাঁ শহরে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তার সাথে পরিবারের আর কেউ যোগাযোগ করতে পারে নাই।
তিনি আরো জানান এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ আত্রাই উপজেলার বাজেধনেশ্বর গ্রামের মমতাজ সরদারের ছেলে আলম সরদার (৩৫) ও বাউল্যাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মামুনুর রশিদ ঋতু (২১) এবং মান্দা উপজেলার বড়পই গ্রামের ইয়াছিন দেওয়ানের ছেলে জুয়েল রানা ও বয়েন উদ্দিনের ছেলে বুলবুল হোসেন (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করে ২দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যর ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় মান্দা উপজেলার দূর্গাপুর মধ্য পাড়ার আব্দুস সামাদ এর ছেলে সজিব (২৩) এবং দূর্গাপুর সোনারপাড়া গ্রামের বাহার আলীর ছেলে সোয়েল রানা (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের জিঞ্জাসাবাদে শহীদুল ইসলামকে একটি ভাড়া বাসায় হত্যা করে তার কাছে থাকা টাকা নিয়ে মান্দার সতীহাট থেকে একটি পিকআপে করে ড্রামের ভিতর ভরে মৃতদেহটি উক্ত স্থানে ফেলে রেখে চলে আসেন। শনিবার আটককৃত ২ জন আসামী প্রথমে পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে কাছে নিজেদের হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ একেএম মামুন চিশতী ও সদর সার্কেল আবু সাঈদ, রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ, নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।