ঢাকাশুক্রবার , ৪ নভেম্বর ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দরুদ শরীফ পাঠের অফুরন্ত ফজিলত। দ্বিতীয় পর্ব।

Link Copied!

দরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে অন্তরের নিফাক মুক্ত হয়। এই প্রসঙ্গে ‘মাজালিসে মাক্কীয়া’ নামক গ্রন্থে আবুল মোজাফফর মোহাম্মদ ইবনে খৈয়াম সমরকন্দী বলেন, একদিন আমি পথ হারিয়ে গেলে হঠাৎ একজন লোক দেখতে পেলাম। লোকটি আমাকে তার সাথে চলতে বললো আমি তার সাথে পথচলা শুরু করলাম।

আমার মনে হলো যে, তিনি সম্ভবত হযরত খিজির আলাইহিস সালাম হবেন, যিনি হারিয়ে যাওয়া পথিককে রাস্তা দেখান এবং মঞ্জিলে মাকসুদে পৌঁছে দেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার নাম কি? জবাবে তিনি বললেন,খিজির ইবনে ইসা আবুল আব্বাস। আমি তার সাথে আরো একজনকে দেখতে পাই, আমি তাকেও জিজ্ঞাসা করলাম আপনার নাম কি? জবাবে তিনি বললেন ইলিয়াস ইবনে শাম।

এরপর আমি উভয়কে সম্মোধন করে বললাম আল্লাহ তাআলা আপনাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন। আপনারা কি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে দেখেছেন? জবাবে তারা বললেন হ্যাঁ, দেখেছি। আমি আরজ করলাম আপনারা আমাকে ওই সকল কথা শোনান যা আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন যাতে আমি আপনাদের থেকে অন্যদেরকে বর্ণনা করতে পারি। তারা বললেন,আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরশাদ করতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে আল্লাহতাআলা তার অন্তর থেকে নিফাক কে এমন ভাবে দূরীভূত করবেন যেমনি ভাবে পানি দ্বারা আবর্জনা দূরভিত হয়ে যায়। (জযবুল কুলুব ২৬৭ পৃষ্ঠ)

দরুদ শরীফ পাঠ করার দ্বারা পরকালে মুক্তি লাভ হয়। এই প্রসঙ্গে হযরত ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,আমার প্রতিবেশী একজন কাতেব তথা হাদিস লেখক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখি এবং জিজ্ঞাসা করি, আল্লাহ তায়ালা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছে? জবাবে তিনি বলেন মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি জানতে চাইলাম কি কারনে ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হাদীস মোবারক লিখতাম তখন সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম মোবারকের পরে *সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম* এই দুরুদ শরীফ টি পড়তাম ও লিখে ফেলতাম।

এই মর্মে আরেকটি ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে। হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাকে সাহেবে খালখানের ছেলে বর্ণনা করেছেন যে, আমার এক বন্ধু ছিল, যে আমার সাথে হাদিস-শরিফ লিখতো। যখন সে মারা গেল আমি তাকে স্বপ্নে দেখি, সে নতুন সবুজ কাপড় পরিধানরত অবস্থায় বসে আছে। আমি বললাম হে বন্ধু! তোমার এই অবস্থা? সে বলল, হাদিস শরীফ লিখার সময় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র নাম মোবারক আসতো তখন আমি *সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম* এই দুরুদ শরীফটি পড়তাম ও লিখতাম। ( হাশিয়ায়ে দালায়েলুল খায়রত, দিল্লি, ২৭ পৃষ্ঠা)

দরুদ শরীফ পাঠ দ্বারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দিদার লাভ হয়। হযরত খিদির আলাইহিস সালাম ও হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালাম বলেন, এক ব্যক্তি সিরিয়া থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে এসে বলল, ইয়া রাসুল আল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার পিতা আপনার সাক্ষাতের জন্য আগ্রহী কিন্তু তিনি বৃদ্ধ ও অন্ধ। আপনার দরবারে উপস্থিত হওয়ার মতো শক্তি নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার পিতা কে বলো, তিনি যেন এক সপ্তাহ যাবৎ রাতে *সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিন* সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করে। এতে করে সে আমাকে স্বপ্নে দেখবে। এবং আরো বলবে সে যেন এই হাদীস খানা আমার থেকে রেওয়ায়েত করে দেন। এবং প্রকৃত অর্থেই পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র দিদার ও যিয়ারত নসিব করে ফেলেন। এবং আলোচ্য হাদিস খানাও রেওয়ায়েত করে দেন। (জযবুল কুলুব ২৬৮ পৃষ্ঠা)

দরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ হয়। মাফাখিরুল ইসলাম গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম সাঃ এরশাদ করেন। যে ব্যক্তি জুমার রাতে আমার উপর ১০০বার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার ১০০ টি প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন। তার মধ্যে ৭০ টি দুনিয়াতে ৩০টি আখেরাতে। (জযবুল কুলুব ২৭৩ পৃষ্ঠা)

দরুদ শরিফ পাঠকারী কখনো গরিব হয় না। বর্ণিত আছে যে, একজন সৎ ব্যক্তি ৩ হাজার দিনার ঋণী হয়ে যায়। ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার ব্যাপারে কাজীর দরবারে নালিশ দেয় ঋণ পরিশোধের জন্য। কাজি তাকে ঋণ পরিশোধ করার জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু এই এক মাস সময় ঋণ পরিশোধ করার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল না। তাই লোকটি আল্লাহ তাআলার দরবারে কান্নাকাটি করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ শরীফ পাঠ করেন। এমত অবস্থায় ঋণ পরিশোধের জন্য বেদে দেওয়া ৩০ দিবসের ২৭ তম দিবাগত রজনীতে তিনি স্বপ্নে দেখতে পান একজন লোক তাকে বলতে লাগলেন আল্লাহ তায়ালা তোমার ঋণ কে পরিশোধ করার ব্যবস্থা করে দিবেন। তুমি আলী ইবনে ইসা উজিরের কাছে গিয়ে বলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিচ্ছেন যে আপনি আমার তিন হাজার দিনার ঋণ পরিশোধ করে দিন। লোকটি বললেন যখন আমি জাগ্রত হই তখন আমার মন প্রফুল্ল ছিল। কিন্তু যখন উযির মহোদয় আমাকে প্রশ্ন করবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছেন এই কথার সত্যতা কি তখন আমি কি প্রমাণ দিব। এই কথা ভেবে আমি সেদিন উজিরের দরবারে যাইনি। পরবর্তী রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আবারও স্বপ্নে দেখতে পাই এবং তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি কেন উজিরের দরবারে যাইনি? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উজির যদি আমার কাছে প্রমান চায় আমি কি জবাব দিব এই আশঙ্কায় আমি যেতে পারিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এই মনোভাব পছন্দ করলেন এবং বললেন তুমি উজিরকে গিয়ে বলবে প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায়ের পর কারো সাথে কথা বলার পূর্বে যেই ৫ হাজার বার দরুদ শরীফ পাঠ করা হয় এই বিষয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কিরহমান কাতে বিন ব্যতীত আর কেউ জানেন না। এরপর আমি উজিরের নিকট গিয়ে আমার স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করলাম এবং প্রমাণস্বর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে তার এই গোপন আমলের কথাও বলে দিলাম।

এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে উজির আমাকে ৩০০০ দিনার দিয়ে দিলেন ঋণ পরিশোধ করার জন্য এবং আরো তিন হাজার দিলেন পরিবার বর্গের জন্য এর সাথে সাথে আরো তিন হাজার দিনার দিলেন নিজের ব্যবসার কাজে ব্যয় করার জন্য। আমি যখন তিন হাজার দিনার নিয়ে কাজীর দরবারে প্রবেশ করলাম ঋণ পরিশোধ করার জন্য। কাজি জানতে চাইলেন কোথা থেকে এই অর্থযোগিয়েছি আমি স্বপ্নের ঘটনা বর্ণনা করলাম। এই ঘটনা শুনে কাজী সাহেব বলতে লাগলেন এটি তো পরম সৌভাগ্যের বিষয় আমি ও এই সৌভাগ্যে অংশগ্রহণ করতে চাই তিনি বললেন আমি এই ঋণ পরিশোধ করে দিচ্ছি তোমার পক্ষ থেকে। ঋণদাতা বললেন আপনি শুধু একা কেন অংশগ্রহণ করবেন? আমি আমার পক্ষ থেকে তার ঋনকে মুক্ত করে দিলাম। কাজী সাহেব বলতে লাগলেন আমি যে অর্থ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য বের করেছি তা আর ফিরিয়ে নেব না আমি এই অর্থ সৌভাগ্যবান ব্যক্তি তোমাকেই দিয়ে দিলাম। মুহূর্তের মধ্যে তিনি ১২০০০ দিনার সঙ্গে নিয়ে এবং ঋণ মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরলেন।( জযবুল কুলুব ২৭০ পৃষ্ঠা)

পরিচালক: আল মোজাদদেদিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com