ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ জুলাই ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি

তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম পবিত্র কোরবানি

Link Copied!

মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা পৃথিবীতে লক্ষাধিকের উপর নবী-রাসূলগণ প্রেরণ করেছেন তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকেই মহান আল্লাহ সুবাহানাহুওয়া তা’আলার উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরবানী করার বিধান বহাল ছিল। কোরবানি এটি নিছক কোন গোস্ত খাওয়ার মহা সমারহ

উৎসব নয়, বরং মহান রবের পক্ষ থেকে তার ভালোবাসা প্রাপ্তির জন্য এবং তার নৈকট্য লাভের জন্য এই বান্দাদের পক্ষ থেকে ইসলামী শরীয়া দৃষ্টিতে হালাল এবং অনুমোদিত পশু জবাহের মাধ্যমে ত্যাগের মহিমা প্রকাশ করা হয় যার নাম কোরবানি।

মূলত পশু জবাহের মাধ্যমে কোরবানি বা ত্যাগ করা, ত্যাগের একটি বাহ্যিক প্রকাশ মাত্র। যে সকল সংশয়বাদী নাস্তিক্য মনোভাপন্য যাদের দৃষ্টিতে কুরবানী একটি পশু হত্যার জঘন্য উৎসব কিংবা গোস্ত খাওয়ার মহা উৎসব বিনয়ের সাথে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং তাদের সংশয় দূর করার লক্ষ্যে পবিত্র কুরআনুল কারীমের একটি আয়াতে কারিমার উদ্ধৃতি তুলে ধরছি।

পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা ইরশাদ করেন। (যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম দোয়া করলেন) হে আমার প্রভু আমাকে একজন নেককার পুত্র সন্তান দান করুন অতঃপর আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম , অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহিম তাকে বলল বৎস আমি স্বপ্নে দেখি যে তোমাকে যবাহ করছি এখন তোমার অভিমত কি? সে বলল হে আমার সম্মানিত পিতা আপনাকে যা আদেশ দেয়া হয়েছে তাই করুন, আল্লাহ চাহেত আপনি আমাকে ধৈর্যশীল হিসেবে পাবেন যখন পিতা পুত্র উভয় আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম তাকে যবাই করার জন্য সজ্জাশায়ীত করল তখন আমি তাকে ডেকে বললাম হে ইব্রাহিম তুমি তো স্বপ্ন সত্য পরিণত করে দেখালে আমি এভাবেই শতকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি নিশ্চয়ই এটা স্পষ্ট পরীক্ষা, আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্য এক মহাজন্তু আমি তার জন্য এই বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি। (সূরা আস সফাত, আ, ১০০-১০৮)

আলোচ্য আয়াতের দিকে যদি একটু লক্ষ্য করি তাহলে নিঃসন্দেহে যাদের অন্তরে কোরবানি নিয়ে সংশয় রয়েছে তাদের সংশয়ের ইতি ঘটবে, কেননা আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা পিতা,ইব্রাহীম (আ) কে আদেশ করছেন পুত্র ইসমাইল (আ)কে কোরবানি করতে স্বপ্নে দেখা সেই আদেশ পিতা বাস্তবায়ন করেছে এবং পুত্র সহনশীল ভাবা পণ্য আচরণ দেখিয়ে মহান রবের পক্ষ থেকে আদিষ্ট হুকুম বাস্তবায়নে পবিত্র মিনা উপত্যকায় মহিমান্বিত পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু সালাম এর খঞ্জরের নিচে পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম শয্যাশায়িত হয়ে আত্মত্যাগের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পৃথিবীর ইতিহাসে তাহা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অনুরূপ আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার সুযোগ হয়নি আর দূর ভবিষ্যতে হবেও না। এতেই বুঝা যায় ইসলামপন্থীদের পক্ষ থেকে মহান রবের উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরবানি এটি পশু হত্যা কিংবা গোশত খাওয়ার মহাসমারাহ কোন উৎসব নয়। বরং পশু কোরবানির মাধ্যমে নিজের আমিত্ব বড়ত্ব অহংকার অন্যায় অনাচার পাপাচার দুরাচার জঘন্যতা নির্লিপ্ততা কে ত্যাগ করে পরিপূর্ণ ও পবিত্র হৃদয়ে তাকওয়া অর্জনের একটি মাধ্যম কেবলমাত্র।

১, কোরবানি যাদের উপর ওয়াজি। জিলহজ্ব মাসের ১০,১১,১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যাদের কাছে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপো বা উহা সমপরিমাণ অর্থ যাদের কাছে রয়েছে তাদের উপর কুরবানী আদায় করা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়েছে তারা যদি কোরবানি আদায় না করেন তাহলে তারা যেন আমাদের ঈদগাহে অন্তর্ভুক্ত না হয়।

২, যে সকল পশু দ্বারা কুরবানী শুদ্ধ হয়, উঠ (পাঁচ বছর বয়সী হতে হবে) গরু, মহিষ দুই বছর বয়সী হতে হবে, ছাগল বা খাসি পরিপূর্ণ (এক বছর বয়সী হতে হবে) বেড়া ,দুম্বা (এক বছর বয়সী হতে হবে) তবে সেটি যদি ছয় মাস বয়সেই পরিপূর্ণ রিষ্টপুষ্ট হয় তবে সেগুলো দাড়াও কোরবানি শুদ্ধ হবে।

৩, পশুর জবাই এর ক্ষেত্রে যে সকল দিকগুলো খেয়াল রাখা আবশ্যক। পশুর কণ্ঠনালীর দুপাশে দুটি দুটি চারটি রগ থেকে কমপক্ষে তিনটি রগ কাটা আবশ্যক পশু জবাইর পর সাথে সাথে পশুর গর্দানের হাড়ে কোন কিছু দিয়ে আঘাত না করা এতে পশুর স্ট্রোক করার সম্ভাবনা অধিক সংখ্যক থাকে আর যদি পশু স্ট্রোক করে তাহলে সেই কুরবানী শুদ্ধ হবে না বরং সেটি কোরবানি নয় হত্যা বলে বিবেচিত হবে। এবং পশু পরিপূর্ণ শ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত তার চামড়া ছিলা শরীয়ত বিরোধী এমন কি কোরবানি নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে।

৪, শরিকানা কুরবানীর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত, সকল শরিকগণের কোরবানি কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যই যেন হয় সেটি যতদূর সম্ভব নিশ্চিত করা আবশ্যক, কোরবানির সকল ব্যয় সকল শরিক সমান ভাবে বহন করা। কোন শরীক যদি সকল ব্যয় সমানভাবে বহন করতে অপারগ হয় সেক্ষেত্রে বাকি শরিকদের জন্য উচিত হবে অবশিষ্ট অনাদায় ব্যয়গুলো অপারগ শরীক থেকে না ধরে তার কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থটুকু হাদিয়া হিসেবে গ্রহণ করে তাকে ছাড় দিয়ে দেওয়া।

৫,কোরবানি পরবর্তীতে কুরবানীকৃত স্থান সমূহ পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার রাখা ও কোরবানির তাৎপর্য ও ইসলামী সৌন্দর্যের মধ্যে একটি।

আসুন আমাদের যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়েছে আমরা সকলেই জেনে বুঝে একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই কোরবানি আদায় করি। মহান আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করেন এবং আমাদের কোরবানি গুলো যেন আল্লাহতালা কবুল করেন। আমিন।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক: আল মোজাদ্দেদিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com