ঢাকাতে চলছে অল্প সংখ্যক বাস, যাত্রীও কম

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের ঢাকা আসার সুবিধার্থে শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। রোববার সকাল থেকে রাজধানীতে বাস চলাচল করছে। তবে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, যাত্রীর সংখ্যা কম। সব রুটেই অল্প কিছু বাস বের হয়েছে। সেগুলোতেও যাত্রী সংকট।

রোববার (১ আগস্ট) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অল্প সংখ্যক বাস চলাচল করছে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের ভিড় নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে অল্প সংখ্যক দূরপাল্লার বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।

রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী শ্রাবণ পরিবহনের ৬/৭টি বাস সারি ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যাত্রী কম থাকায় বেশ সময় নিয়ে একটি বাস পূর্ণ হচ্ছিল।

শ্রাবণ পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো জ-১১১৯১৩) চালক মো. সুমন বলেন, ‘এই রুটে শত শত গাড়ি থাকলেও মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি গাড়ি বের হয়েছে। গাড়ি চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।’

তিনি বলেন, ‘মালিক কইছে, গাড়ি চালাইস। যা পাস তুই নিস, আমারেও কিছু দিস। কিন্তু যাত্রী তো নাই।’

আরেকটি গাড়ির চালক শহিদুল ইসলাম জানান, এই অল্প সময়ের জন্য বেশিরভাগ গাড়িই নামেনি। যারাও গাড়ি নিয়ে নেমেছে তারা যাত্রী পাচ্ছে না। গাড়ি ভরতে সময় লাগছে। দুপুরের মধ্যে দুই ট্রিপের বেশি দেয়া যাবে না।’

এই মহাসড়কে অনাবিল, রজনীগন্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, মৌমিতা, মেঘলাসহ বিভিন্ন কোম্পানির দু/একটি করে বাস চলতে দেখা গেছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে বিধিনিষেধ আরোপ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আটদিনের জন্য শিথিল করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। এরপর আবার গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত থাকবে এই বিধিনিষেধ।

বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ ছিল। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ ছিল সব ধরনের শিল্প-কারখানা।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রোববার (১ আগস্ট) থেকে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দিয়েছে সরকার। এই ঘোষণার পর শনিবার ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কাজে যোগ দিতে শ্রমিকরা সীমাহীন দুর্ভোগ সয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন।

যদিও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, শিল্প-কারখানা খুললেও আপাতত কেউ কাজে যোগ না দিলে চাকরি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তারা চাকরি হারাবেন না। ঈদে বাড়ি গিয়ে যারা ফিরতে পারেননি তারা ৫ আগস্টের পর পর্যায়ক্রমে ফিরবেন।

শনিবার রাতে সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের কাজে যোগদানের সুবিধার্থে ১ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।