ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ আগস্ট ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি

ড্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতককে নিজের সন্তান বলে দাবী করেন সালমা

350
আশিকুর রহমান, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি 
আগস্ট ৪, ২০২২ ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নরসিংদীর সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকার নার্সারী মোড়ের ময়লার ড্রেন থেকে গত রবিবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে নয়টায় উদ্ধার হওয়া জীবিত একদিনের বয়সী অজ্ঞাত একনারী শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যা শিশুটিকে নিয়ে রহস্যের জট আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করেছে।

স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া নবজাতকটিকে জন্মের পর ময়লার ড্রেনে ফেলার বর্ণনা দিয়েছেন নবজাতক শিশুটির মা দাবি করা একনারী। ওই নারীর নাম সালমা বেগম (৫০)। স্থানীয় বাড়ি ময়মনসিংহ হলেও তিনি ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন দাসপাড়া এলাকায়।

নবজাতককের মা দাবি করা সালমা বলেন, প্রসবের পর প্লাস্টিকের একটি ব্যাগে ভরে শৌচাগারের ছয় ইঞ্চি প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে ফেলে দেন। ফলে শিশুটি পাশের ময়লার ড্রেনে গিয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়ির মালিক আইনুল মিয়ার ১৩ কক্ষের বাড়িটিতে ৯টি পরিবার বসবাস করে। ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে সবাই প্রতিদিনের মত যার যার ঘরে ছিলেন।

ওই সময় শিশুর কান্না শুনতে পায় প্রতিবেশী একনারী। পরে তিনি পাশের ঘরে থাকা সবাইকে জানালে কান্নার শব্দ কোথা থেকে আসছে, তার খোঁজ চালাতে বাড়ির সবাই জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একনারী ড্রেনের পাশে এসে থমকে যান এবং তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ড্রেনের ঢাকনা খুলে দেখতে পান, প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক কান্না করছে।

পরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সহায়তায় নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্হা করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাড়িটিতে যারা বসবাস করেন, তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদেরই একজন সালমা বেগম।

ময়মনসিংহে বাড়ি হলেও সে এখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে তিনি এক রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে সালমার।

সালমা যে বাড়িতে বসবাস করেন তার পাশেই রংমিস্ত্রি রহম আলীর (৬০) বাড়ি। বর্তমানে রহম আলীর স্ত্রী ও দুই ছেলে প্রবাসী। কয়েক বছর আগে কাজের সূত্রে সালমা বেগমের সঙ্গে রহম আলীর পরিচয় হলে তাঁদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সালমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। রহম আলী এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন বলে জানা যায়।

বাড়ির মালিক আউয়াল মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, যে ড্রেন থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়, তা সালমা বেগমের শৌচাগার লাগোয়া। সালমা বেগম যে অন্তঃসত্ত্বা ছিল, তা বাড়ির সবাই জানতো। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। তাকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। এতে করে সবার সন্দেহ হয় তার দিকে।

পরে তার মেয়ের মাধ্যমে পরদিন রাতে স্থানীয় লোকজন সালমাকে ধরে আনেন এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে চান। পরে সালমা বেগম সবার সামনে স্বীকার করে নেন উদ্ধার হওয়া নবজাতক তার এবং নবজাতকের পিতা রহম আলীর। পরে এলাকাবাসী রহম আলীকেও ধরে আনা হলে তিনিও সবার সামনে একই কথা স্বীকার করেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ‘শিশুটির মা হিসেবে দাবি করছেন সালমা নামের ওই নারী। তবে শিশুটি পরিত্যক্ত হিসেবে ভর্তি হওয়ায় সরাসরি দাবি করা মায়ের হাতে শিশুটিকে তুলে দিতে পারি না। যেহেতু শিশুর বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং শিশুর পরিবারের বিষয়টা সমাজসেবা অধিদপ্তর দেখবে।

আমাদের চিকিসৎকরা সার্বক্ষণিক শিশুটির চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক তদারকি করছেন। জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে শিশুটির বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ ও ভাল আছেন।

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com