কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে আসছে পরিবর্তন

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

কানাডায় আগামী জুলাই থেকে বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রদেশের প্রিমিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জুলাই থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা শুরু করেছে।

দেশটির প্রধান চারটি প্রদেশের অন্যতম প্রদেশ আলবার্টার প্রিমিয়ার জেসন কেনি এক ঘোষণায় বলেছেন, আলবার্টা ১ জুলাই পুনরায় খোলার পরিকল্পনার তৃতীয় পর্যায়ে চলে যাবে, যার অর্থ প্রায় সমস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেওয়া হবে।

ঘরে সামাজিক জমায়েতগুলোকে আবার অনুমতি দেওয়া হবে এবং বাইরের ইভেন্ট আকারের কোনো সীমা থাকবে না। রেস্তোরাঁ, বার এবং খুচরা আউটলেটগুলো আবারও পুরো ক্ষমতা নিয়ে চালাতে সক্ষম হবে।

প্রাদেশিক মাস্কের আদেশও তুলে নেওয়া হবে তবে জনসাধারণের যাতায়াতে পাবলিক ট্রানজিট এবং শহর-মালিকানাধীন ভবনের অভ্যন্তরে কিছু সেটিংসে এখনো মাস্কের প্রয়োজন হবে। তবে কেউ কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে তাকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

জেসন কেনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং একটি দুর্দান্ত অর্জন, তবে আমরা এখানেই থামব না। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেব; যাতে আমরা কেবল গ্রীষ্মের জন্যই উন্মুক্ত নই, ভালোর জন্য উন্মুক্ত থাকব।

এ দিকে কাউকে কানাডায় ঢুকতে হলে তাকে অবশ্যই পুরোপুরি ভ্যাকসিনেটেড হওয়ার সপক্ষে প্রমাণপত্র প্রদর্শন করতে হবে। সেই ভ্যাকসিনও হতে হবে কানাডায় অনুমোদিত। কানাডা এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে।

সেগুলো হলো অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন, ফাইজার ও মডার্না। এ ব্যবস্থা চালুর সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ সরকার ঘোষণা না করলেও জুলাইয়ের শুরুর দিকে এটি চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তঃ সরকার বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লাব্লাঁ বলেন, ব্যবস্থাটি চালুর দিনক্ষণ নির্ভর করছে দেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ হার কী দাঁড়ায় তার ওপর। পূর্ণাঙ্গভাবে ভ্যাকসিনেটেড বা ভ্যাকসিন পাসপোর্ট নিয়ে সরকার প্রদেশগুলো ও বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির সঙ্গে কাজ করছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে বিস্তারিত নথি প্রকাশ করা হতে পারে।

হোটেল কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থায় পরিবর্তন হলে অনুমোদিত হোটেলে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ছাড়াই কানাডায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। ফেডারেল কর্মকর্তারা বুধবার এই ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কারা কানাডায় প্রবেশ করতে পারবেন সেই নিয়মে সরকার পরিবর্তন আনছে না বলে জানিয়েছেন ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্যাটি হাইডু।

প্যাটি হাইডু বলেন, এখানে পার্থক্য যেটা তা হলো, ভ্যাকসিনের কোর্স সম্পন্ন করেছেন এমন যাত্রীদের সরকার নির্ধারিত হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। প্রবেশের প্রথম দিনই করা পরীক্ষার নেগেটিভ ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকার সুযোগ পাবেন তারা।

কলামিস্ট উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, কোভিড-১৯ পেনডেমিকে দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ মুক্ত সামাজিক জীবনে ফিরে যাচ্ছে প্রদেশটির জনগণ। বিশ্বাস করি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে খুব দ্রুতই স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে, তবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রতি উদাসীনতা মহতী উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্তও করতে পারে। তাই দ্রুত ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় এসে জনগণকে সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কিরণ বণিক সংকর বললেন, একঘেয়েমি এই জীবন থেকে আমরা সবাই বেরিয়ে আসতে চাই। তবে ভ্যাক্সিনেশন পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার পরে।

আলবার্টার অধিবাসী এবং সিলেট অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সভাপতি রূপক দত্ত জানান, আমরা প্রিমিয়ারের এ ঘোষণাকে সাধুবাদ জানাই। তবে তা হতে হবে স্বাস্থ্য সচেতনতার মধ্য দিয়েই। যে কোনো মূল্যে সবার আগে স্বাস্থ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড জিও সাইন্টিস্ট অব আলবার্টার ক্যালগেরি শাখার কোষাধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির বলেন, সামাজিক দূরত্ব, বিধিনিষেধ ও সরকারের দেয়া নিয়মনীতি মানতে গিয়ে আমরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি। প্রিমিয়ারের এ ঘোষণায় সবকিছুই স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে- এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অন্য দিকে অ্যালবার্টারনসদের টিকা দেয়ার উত্সাহিত করার প্রয়াসের অংশ হিসেবে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে ওয়েস্টজেট এবং এয়ার কানাডার অফার করা আরও দুটি ১ মিলিয়ন ডলার ড্র এবং ৪০টি ভ্রমণ পুরস্কার থাকবে। প্রিমিয়ার জেসন কেনি বলেছেন, এ ড্রগুলোতে প্রবেশের টিকা দ্বিতীয় ডোজের সঙ্গে আবদ্ধ থাকবে।