করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত-মৃত্যুর দিনে ডেঙ্গুতে রেকর্ড

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু ও নতুন করে ১১ হাজার ৮৭৪ জন শনাক্ত হয়েছেন রোববার (১১ জুলাই)। একই দিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ জন রোগী। চলতি বছর একদিনে অর্ধশতাধিক রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির এটিও নতুন রেকর্ড।

হাসপাতালে মোট ভর্তি ৫৩ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে আটজন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪৫ জন রয়েছেন। এনিয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯০ জনে। তাদের মধ্যে ১৮৯ জন রাজধানী ঢাকার ও একজন ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের (এমআইএস) সহকারী পরিচালক ও হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. কামরুল কিবরিয়া স্বাক্ষরিত ডেঙ্গু-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এতথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশে সর্বমোট ৭৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তারমধ্যে জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে নয়জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিনজন, মেতে ৪৩ জন, জুনে ২৭১ জন এবং ১১ জুলাই পর্যন্ত ৩৫৫ জন রোগী ভর্তি হন। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩৬ জন।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি যখন ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘার মতো।

তারা বলছেন, চলমান বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজননকাল চলছে। এসময় থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। নির্মাণাধীন ও পরিত্যক্ত ভবন, বাসার ছাদ, বাথরুমের কমোড, আঙিনা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ার এবং ফ্রিজ-এসিতে পরিষ্কার পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা জন্মে। তাই তিনদিনের বেশি পরিষ্কার পানি কোথাও জমে থাকলে তা ফেলে দিতে হবে।

রোববার দুপুরে করোনা বিষয়ক অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও পরিচালক (অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, এপ্রিল মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও মে মাস থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। জানুয়ারি থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৩০২ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৩০১ জনই রাজধানীতে আক্রান্ত হন।

তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় ২৬৮ জন রোগী ভর্তি হন। ফলে ডিএসসিসির বাসিন্দাদেরকেই বেশি সচেতন হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।