ঢাকাশনিবার , ২২ অক্টোবর ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকের ভয়াবহতা এবং তার শাস্তি

Link Copied!

ইসলাম বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম। এর প্রতিটি আদেশ-নিষেধ হেকমত পূর্ণ। ইসলামে বস্তুত শুধু বাহ্যিক দিকটাই বিচার্য নয় বরং ভিতর ও বাহিরে সকল কিছুকে বিচার বিশ্লেষণ করে ভালো-মন্দের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। প্রাক ইসলামী যুগে সমগ্র আরব সমাজে মদ ও জুয়ার ব্যাপক প্রচলন ছিল। শুধু তাই নয় মদ আভিজাত্যের প্রতীক বলে বিবেচিত হতো এবং সকল মদ্যপায়ীঃ গণ মদকে আভিজাত্য পানীয় বলে বিবেচনা করতো।

অতঃপর মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা মদ ও মাদক কে পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে নিষেধ করেছেন। কারণ দীর্ঘদিনের অভ্যাস মানুষ সহজে ত্যাগ করতে পারে না। তাই মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা প্রথমে মদ এর অপকারিতা এবং ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। মহান আল্লাহতালা ঘোষণা করেন। তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে আপনি বলে দিন, এতুদভয়ের মধ্যে মহাপাপ আছে এবং উপকারিতাও আছে। হীন উপকার অপেক্ষা পাপ অনেক বড়। (সূরা বাকারা আয়াত 119) এর মানে যেসকল ব্যক্তিগণ মদ, জুয়া, ইয়াবা, আফিম, ফেনসিডিল, গাজা, হিরোইন, আইস, এলএসডি,সিগারেট, বিড়ি,তামাক সহ সকল নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবণ ও গ্রহণের মাধ্যমে যারা মনে করে থাকে এগুলোর মাধ্যমে তারা কিছুটা উপকৃত হয় যেমন মানসিক শস্তি,সাময়িক প্রফুল্লতা মানসিক বিষন্নতা দূর করে এবং শরীর মন চাঙ্গা করে, প্রকৃত অর্থে একজন মাদক সেবনকারী কে ভয়াবহ এই বিষাক্ত মাদক ঘুন পোকার মত কুরে কুরে বিতর থেকে শেষ করে দেয়।

মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হচ্ছে তার সুস্থ দেহ, সুস্থ মন আকল ও বিবেক। আর ভয়াবহমাদক এ সকল কিছুকেই ধ্বংস করে দেয়। আর যারা মনে করে থাকে মাদক গ্রহণে তারা উপকৃত হচ্ছে ” আততেই তারা লাভের আশায় লোকসান গুনছে”

মাদক একটি আত্মঘাতীক দ্রব্য যা গ্রহণের ফলে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শান্তি বিনষ্ট হয়। রাষ্ট্রীয় আইনে ও মাদক গ্রহণ নিষিদ্ধ। কিন্তু উঠতি গামী যুবসমাজ পশ্চিমাদের অনুসরণে মাদকের মতো ভয়াবহ বিষাক্ত দ্রব্য গ্রহণের জন্য তারা দৌড়ে এগোচ্ছে, যুবকদের পাশাপাশি যুবতীরা ও পিছিয়ে নেই। বিশেষ করে পুলিশের বিশেষ শাখা এসবির পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্না রহমান দম্পতিকে ঘুমের ঘরে কুপিয়ে হত্যা করে তাদেরই কন্যা সন্তান মাদকাসক্ত ইয়াবাসেবী ঐশী রহমান। এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মেধাবী ছাত্র হাফিজুর রহমান ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি গ্রহণের ফলে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ডাব বিক্রেতার ধারালো দা দিয়ে নিজেই নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহত্যা করে।

এই সকল বিষয় দেশ ,জাতি ও মানব সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অশনি সংকেত। মাদকসেবীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে যাবে এবং তা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মাদক ও মাদকসেবীদের নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা আইন সালিশি এর মাধ্যমে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। যথাযথ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের নানান ধরনের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সেই সাথে স্কুল,কলেজ ,ইউনিভার্সিটি প্রতিটি শিক্ষার স্তরে ইসলামী ও স্ব স্ব ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার প্রতি তাগিদ প্রদান করতে হবে।

পরকালে মাদকের ভয়াবহ শাস্তির কথা তুলে ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন। মদ্যপায়ী ও মাদকসেবী গণকে কেয়ামতের ময়দানে উপস্থিত করা হবে তাদেক চেহারা থাকবে কুৎসিত চক্ষু হবে নীল বর্ণের জিবা বুক পর্যন্ত ঝুলন্ত থাকবে এবং তা থেকে লালা ঝরতে থাকবে, তাদের এরূপ অবস্থা যারা দেখবে তারা তাদেরকে ঘৃণা করতে থাকবে। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে। তোমরা মাদকসেবীকে সালাম দিওনা, তারা অসুস্থ হলে তাদেরকে দেখতেও যেও না,

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন তোমরা মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাক কেননা এটি সকল গুনাহের মূল। ঈমান ও মাদক একত্রিত হতে পারে না,একটি অপরটি কে ধ্বংস করে দেয়। অর্থাৎ মাদক গ্রহণের ফলে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মুখ দিয়ে কুফরী বাক্য বেরিয়ে আসতে পারে যেটি ঈমান ধ্বংসের বদ্ধমূল কারণ। আর প্রকৃত অর্থেই যারা মাদক গ্রহণ করে নেশাগ্রস্ত ও মাতাল অবস্থায় থাকে তারা নিজেদের স্ত্রী সন্তান, পিতা মাতা, প্রতিবেশী বা পথচারীদেরকে গালমন্দ করে এবং কখনো কখনো মহামহিম আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ও কটাক্ষ ও বিরূপ মন্তব্য করে বসে। যা বেইমান এবং জাহান্নামী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আসুন মাদককে না বলি। ব্যক্তিজীবনে নিজেরা সচেতন হই পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি। সর্বোপরি মহান আল্লাহতালা সবাইকে মাদকের ভয়াবহ বিষাক্ত ছোবল থেকে হেফাজত করুক। আমিন!

পরিচালক: আল মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com