অরক্ষিত সীমান্ত লালমনিরহাটে করোনা ঝুঁকি

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১ বছর আগে

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ: লালমনিরহাট জেলার ২শত ৮৪কিলোমিটার ভারত সীমান্ত পথের ৫৪কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চলছে দু’দেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত। অরক্ষিত সীমান্তের কারণে করোনা ঝুঁকিতে আছে লালমনিরহাট জেলার ১৫লক্ষেরও বেশি মানুষ। এতে লালমনিরহাট জেলায় বেড়েছে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও।

জানা গেছে, সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে লালমনিরহাট জেলার মোট সীমান্ত পথে বিজিবির ৩টি ব্যাটালিয়ন তথা ১৫, ৫১ ও ৬১ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া বিহীন সীমান্ত পথে সীমান্তরক্ষীদের নজরদারী ফাঁকি দিয়ে চলছে চোরাকারবারী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত। দুই দেশের দালাল চক্রের মাধ্যমে চলছে মানুষ পারাপার। এদিকে আগামী পবিত্র ঈদ উল আযহা (কোরবানীর ঈদ) কে সামনে রেখে সীমান্তের অন্ততঃ ৩০টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে প্রায় প্রতিরাতে গরু পারাপার করছে শতাধিক চোরাকারবারী সিন্ডিকেট। এসব গরু আবার প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে। এছাড়া লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে কয়েক শত ট্রাক। এসব ভারতীয় ট্রাকের সাথে আসা চালক ও সহকারী চালকরা স্থলবন্দরের বিভিন্ন হোটেলে খাবার খাচ্ছে এবং চলাফেরাও করছেন।

এদিকে বেশ কয়েকটি সীমান্তে দেখা গেছে, দিনের বেলায় কৃষি কাজের নাম করে ভারতীয়রা যেমন বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন তেমন বাংলাদেশীরাও ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। এসব লোকের অনেকের রয়েছে দু’দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। মাদক ব্যবসায়ীরা দুই দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে অরক্ষিত সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে গিয়ে অবস্থান করছে। আর এভাবেই চলছে সীমান্ত পথে ভারত-বাংলাদেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত। এ কারণে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে লালমনিরহাট জেলার ১৫লক্ষাধিক মানুষ।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই স্কুল শিক্ষকসহ এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭জনের। এ পর্যন্ত মোট ৬হাজার ৬শত ১২জনের নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ১হাজার ১শত ৬৭জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। শুক্রবারেও ৮জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মলেন্দু রায় সাংবাদিকদের বলেন, গত কয়েক দিন ধরে লালমনিরহাটে করোনা শনাক্তের হার ৩৭-৩৮ শতাংশ, যা দুই মাস আগেও ছিল ১০-১১ শতাংশ।

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। আর গত ২৪ মে থেকে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় চলছে লকডাউন। সীমান্ত পথে সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করলেও লালমনিরহাটের অরক্ষিত সীমান্ত পথে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়নি। ফলে সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত ঝুঁকিতে রয়েছেন লালমনিরহাট জেলার মানুষ।

উল্লেখ্য যে, শুকবার (১১ জুন) লালমনিরহাট জেলায় নতুন করোনা পজিটিভ কেস- ৮জন, (লালমনিরহাট সদর- ৬জন, কালীগঞ্জ- ২জন)। লালমনিরহাট জেলায় এ পর্যন্ত রোগী শনাক্ত ১হাজার ১শত ৬৭জন। সুস্থ্য ১হাজার ৬০জন। মোট মৃত- ১৭জন। মোট নমুনা কালেকশন- ৬হাজার ৬শত ১২জন, মোট ফলাফল পাওয়া গেছে ৬হাজার ৪শত ৬৮জন। গত ২৪ঘন্টায় কোয়ারেন্টাইন- ৪০জন, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন- ৪শত ৬০জন (লালমনিরহাট সদর- ৩শত ৫জন, হাতীবান্ধা- ২০জন, আদিতমারী- ১শত ১৫জন, কালীগঞ্জ- ১০জন, পাটগ্রাম- ১০জন) এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন- ৬হাজার ৭৭জন। গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে- ৮জন, বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন- ৯০জন (হোম- ৭১জন, প্রাতিষ্ঠানিক- ১৯জন)। এ পর্যন্ত আইসোলেশন- ১হাজার ১শত ৬৭জন।