ঢাকাশুক্রবার , ২৮ অক্টোবর ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবারিত রহমত দ্বারা সমৃদ্ধ একটি আমল হচ্ছে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ শরীফ প্রথম পর্ব

Link Copied!

মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা এরশাদ করেন। নিশ্চয়ই আমি ও আমার ফেরেশতাগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করি। হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর উপর দরুদ পাঠ করো আর উত্তম ভাবে (আদব ও সম্মানের) সাথে সালাম পেশ করো। (সূরা আহযাব আয়াত 56) হাদিসের অসংখ্য কিতাবগুলোতে দুরুদ শরীফ পাঠের অসংখ্য ফযিলতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। বহুমুখী ফযিলাতের, প্রথম একটি ফজিলত হচ্ছে দুরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে আল্লার রহমত প্রাপ্তি হওয়া যায়।

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন। যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তার উপর দশ টি রহমত নাযিল করবেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন, এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। (সুনান নাসাঈ, আশ শেফা দ্বিতীয় খন্ড 55 পৃষ্ঠা)

দরুদ শরীফ এর মাধ্যমে গুনাহ মার্জনা হয়। এই প্রসঙ্গে হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন। আমার উপর প্রেরিত দরুদ পুলসিরাতে নুর হবে। যে ব্যক্তি জুমার দিন আমার উপর আশি বার দরুদ পাঠ করবে তার আশি বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (জাওয়াহিরুল বিহার চতুর্থ খন্ড 163 পৃষ্ঠা, জাযবুল কুলুব ইলাদিয়ারীল মাহবুব 267 পৃষ্ঠা) অপর হাদিসে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাহু আলাই সাল্লাম ইরশাদ করেন। যে ব্যক্তি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে তার গুনাহ গুলো এমন ভাবে মুছে দেওয়া হবে যেভাবে ঠান্ডা পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সালাম প্রেরন করা গোলাম আযাদ করা থেকে অধিক অধিক শ্রেয়। (আশ শেফা দ্বিতীয় খন্ড 56 পৃষ্ঠা)

দরুদ শরীফ নেকির পাল্লা ভারী করে দিবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। কেয়ামত দিবসে যখন মানুষের আমলনামা পাল্লায় মাপা হবে ঠিক ওই সময় হযরত আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সবুজ কাপড় পরিহিত আল্লাহতালা আরশের নিচে অবস্থান করবে। এবং তিনি সেখান থেকে লক্ষ করবেন তার সন্তানগণের মধ্যে কারা জান্নাতী হচ্ছেন আর কারা জাহান্নামী হচ্ছেন। এমাতো অবস্থায় তিনি দেখবেন একজন উম্মতে মোহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লামকে জাহান্নামের ফেরেশতারা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সময় তিনি আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডেকে উঠবেন হে আহমাদ! হে আহমেদ !!হে আহমদ!!! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলবেন লাব্বাইক ইয়া আবুল বাশার। তিনি বলবেন আমি এইমাত্র দেখলাম তোমার একজন উম্মতকে জাহান্নামের ফেরেশতাগণ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ফেরেশতাদের নিকট গমন করবেন এবং আরশের দিকে লক্ষ করে তার পবিত্র বাম হস্ত মোবারক দাড়ি মোবারক এর উপর রেখে আল্লাহ তায়ালাকে ডেকে বলবেন হে আল্লাহ আপনি তো আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন আমার উম্মতের বিষয়ে আমাকে লজ্জিত করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতালা ফেরেশতাগণকে বলবে তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগত হও, মিজানের পাল্লা পুনরায় পরিমাপ করতে বলবেন। দ্বিতীয়বার পরিমাপান্তেও যখন গুনাহের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে ঠিক তখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আপন জুব্বা মোবারক থেকে এক টুকরো সাদা কাগজ বের করে মিজানের পাল্লায় দেওয়া হবে আর তাতেই সঙ্গে সঙ্গে নেকের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। মুহূর্তের মধ্যেই জাহান্নামী ব্যক্তিটি জান্নাতি হয়ে যাবে। জান্নাতের ফেরেশতাগণ যখন তাকে জান্নাতে নিয়ে যেতে লাগবে সে তাদেরকে বলবে একটু দাড়াও আমি এই মহান দরদী ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাই। তখন ওই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে বলবেন আপনি কে হে দরদী? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেন আমি তোমার নবী তুমি আমার উম্মত। আর সাদা কাগজের টুকরাটি হলো সেই দুরুদ শরীফ যা তুমি আমার উপর একবার পড়েছিলে আমি তার সংরক্ষণ করেছিলাম যাতে প্রয়োজনের সময় তোমার কাজে আসে এবং মুক্তির উপায় হয়। (জাওয়াহিরুল বিহার চতুর্থ খন্ড 167 পৃষ্ঠা)

দুরুদ শরীফ দ্বারা আজাব থেকে মুক্তি লাভ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম ইরশাদ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা দয়ার দৃষ্টিদান করেন ওই ব্যক্তির উপর যে আমার উপর দরুদ পাঠ করে। আর যার উপর আল্লাহর দয়ার দৃষ্টি পড়বে আল্লাহ তায়ালা তাকে কখনো আযাব দেবেন না। (প্রাগুক্ত)

দরুদ শরীফ পাঠ কারী কেয়ামতের দিবসে আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া লাভ করবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন কিয়ামতের দিবসে তিন শ্রেণীর মানুষ আল্লাহতালার আরশের নিচে ছায়া লাভ করবে। সাহাবীগণ জানতে চাইলেন হে আল্লাহর রাসূল তারা কারা? জবাবে তিনি বললেন, যে আমার কোন মুসিবত গ্রস্থ উম্মতের মুসিবত দূর করবে, যে আমার সুন্নত কে জীবিত রাখবে, এবং যে আমার উপর অধিক হারে দুরুদ শরীফ পাঠ করবে। (যদিও অন্য হাদিসে সাত শ্রেণীর ব্যক্তির কথা উল্লেখ আছে। আলোচিত হাদীসটি দুরুদ শরীফের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে) (আফজালুস সালাত 28 পৃষ্ঠা)

দরুদ শরীফ মুনকার নাকিরের সাওয়ালের জবাব আহসান করবে। প্রখ্যাত ওলি হযরত শিবলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত আছে,তিনি বলেন, আমার এক প্রতিবেশী মারা যায় আমি তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করি আল্লাহতালা তোমার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? জবাবে সে বলে আমার উপর বড় ধরনের মুসিবত এসেছিল বিশেষত মুনকার নাকিরের ছোয়ালের সময়। আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যেন দ্বীন ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করিনি। এ সময় হঠাৎ আওয়াজ হল তুমি যে তোমার জবান কে বেকার রেখেছিলে এটি তার শাস্তি। আজাবের ফেরেশ্তা গন আমার দিকে এগিয়ে আসলে আমি দেখলাম একজন সুগন্ধি যুক্ত সুন্দর পুরুষ আমার ও ফেরেশতাগণের মাঝে আড়াল হয়ে গিয়েছে, তিনি আমাকে ঈমানের দলিল তথা ছোয়ালের জবাব শিখিয়ে দিচ্ছেন। আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে বলে আমি এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তা’য়ালা আপনার তেলাওয়াত কৃত দুরূদ শরীফ থেকে সৃষ্টি করেছে এবং আমাকে আপনার প্রতি নিযুক্ত করেছে আপনার আপদে-বিপদে সহযোগী হবার জন্য। (জযবুল কুলুব, ফার্সি- 250 পৃষ্ঠা)

নেক উদ্দেশ্য সফল ও রিজিক বৃদ্ধির জন্য দুরুদ শরীফ এর আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। যার উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না সে যেন অধিক সংখ্যায় দরুদ পাঠ করে। নিশ্চয়ই দরুদ শরিফ দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-দুর্দশার দূরীভূত করে, রিজিক বৃদ্ধি করে এবং প্রয়োজন পূরণ করে। (আফজালুস সালাত 28 পৃষ্ঠা)

দুরুদ শরীফ আল্লাহর নৈকট্য লাভের উসিলা। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম ইরশাদ করেন। কেয়ামতের দিবসে আমার সবচেয়ে নিকট হবে ঐসকল লোক যারা আমার উপর বেশী দরুদ পাঠ করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম এর নৈকট্য হাসিলের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। (তিরমিজি শরীফ, মিশকাত শরীফ ৮৬ পৃষ্ঠা হাদিস নং 861)

দুরুদ শরীফ পাঠ করার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত নসিব করা যায়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম ইরশাদ করেন। যে ব্যক্তি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে অথবা আমাকে ওসিলা বানাবে কেয়ামতের দিন তার উপর আমার শাফায়াত আবশ্যক হবে। (ফজলুস সালাত আ’লান নবীয়ী 50 পৃষ্ঠা হাদিস নং 51)

দরুদ শরীফ পাঠ হজ্জ ও জিহাদ থেকে উত্তম। এই প্রসঙ্গে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম ইরশাদ করেন। যে ব্যক্তি ইসলাম নির্দেশিত হজ করার পর একটি ইসলামী জেহাদ করে, তবে তা চারশত হজের সমান সওয়াব হবে। তার এ বাণী শ্রবনের পর যাদের হজ ও জিহাদ করার সামর্থ্য ছিল না তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ল। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট ওহী প্রেরণ করেন, যে ব্যক্তি আপনার উপর দরুদ পাঠ করবে, সে চারশত জিহাদের সওয়াব পাবে। আর প্রত্যেক জিহাদ চারশত হজের সমান হবে। (জযবুল কুলুব, উর্দু- 267 পৃষ্ঠা)

পরিচালক আল মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com