ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১ ডিসেম্বর ২০২২
  1. অনান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি
  12. খোলা কলাম
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চাকরি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া নরসিংদী জেলা রেজিস্ট্রার অফিস

350
তানিম টিভি
ডিসেম্বর ১, ২০২২ ১:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আশিকুর রহমান, নরসিংদী প্রতিনিধি : ঘুষ ছাড়া চলেইনা নরসিংদী জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। ঘুষের বিনিময়ে চলে শ্রেণি বদল। আর এই শ্রেণি বদলের মাধ্যমেই হয় দলিল রেজিস্ট্রেশন। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি দলিল সম্পাদনে নেওয়া হয় সাড়ে ৫ হাজার টাকা। তল্লাশ ও নকল লেখার নামে নেওয়া হচ্ছে আরও অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা।

এ ছাড়া বালাম বইয়ের পাতা ছিড়া ও চুরিসহ নানা জাল-জালিয়াতি তো আছেই। এসবের বিনিময়ে মাসে কয়েক অর্ধ কোটি টাকা যাচ্ছে জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক সমিতি, দলিল লেখক ও তল্লাশকারক সমিতি এবং সরকারদলীয় এক প্রভাবশালী নেতার পকেটে। নরসিংদী জেলা রেজিস্ট্রার ও সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সকল অনিয়মের শেল্টার দিচ্ছেন সরকারি দলের ওই প্রভাবশালী নেতা।

মাসে এ অফিসের অবৈধ আয় থেকে শুধু তার পকেটেই যায় প্রায় দুই-তৃতীংশা টাকা। এখানে দলিল গ্রহিতাদের কয়েকটি ধাপে ঘুষ দিতে হয়। প্রথমত, দলিল লেখক সমিতি নামের একটি অবৈধ সমিতি আছে এখানে। যার আহ্বায়ক দলিল লেখক জহির ও সদস্য সচিব মামুন।

আহবায়ক জহির মোল্লা আগে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্প্রীত। উক্ত কমিটি তিন মাসের মেয়াদের হলেও তা ছয় মাস অতিক্রম হতে চলেছে। হয়নি কোন সভা। এ অবৈধ কমিটিও নিয়ন্ত্রণ করেন ওই প্রভাবশালী নেতা।

প্রতিটি দলিলের জন্য এই কমিটিকেই দিতে হয় দুই হাজার টাকা করে। টাকা সংগ্রহ করেন আনোয়ার ও আশ্রাফ উদ্দিন। দুজনই জহিরের লোক। কেরানির চেয়ারের পাশে বসে প্রকাশ্যে টাকা সংগ্রহ করেন তারা। এখান থেকেই প্রতি দলিলে এক হাজার টাকা যায় অবৈধ সমিতির নামে। আর বাকি টাকার ভাগ যায় ওই প্রভাবশালীর নেতার নামে। তার ভয়ে দলিল লেখকরা মুখ খুলতে রাজি হননি।

দ্বিতীয়ত্ব অফিস খরচ বাবদ সেরেস্তাদার আব্দুল বাছেদের হাতে দিতে হয় আড়াই হাজার টাকা। তৃতীয়ত্ব বড় সাহেবের কথা বলে পিয়ন মাহবুব নেন আরও এক হাজার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাবিব নামের এক ব্যক্তিও এই টাকা সংগ্রহে যোগ দিয়েছেন। জেলা রেজিস্ট্রারের ডান হাত খ্যাত মাহবুবের পদবি পিয়ন হলেও তার কথার বাইরে যেতে পারেন না স্বয়ং সাব-রেজিস্ট্রারও। মাহবুব নিজেকে শিল্পমন্ত্রীর স্বজন পরিচয় দিলেও মন্ত্রী তাকে বিশেষ একটা পাত্তা দেন না বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,

এ অফিসে দিনে গড়ে শতাধিক দলিল সম্পাদিত হয়। দলিল তল্লাশ ও নকল লেখার আবেদন নিষ্পত্তি হয় প্রায় দু’শতাধিক। প্রতিটি দলিলের সম্পাদন থেকে ঘুষ নেওয়া হয় এক হাজার টাকা, নকল থেকে এক হাজার ও তল্লাশ থেকে আরও এক হাজার টাকা। গড়ে প্রতিদিন জেলা রেজিস্ট্রারের পকেটে ঢুকছে তিন লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসে শুধু এই অফিস থেকেই অবৈধভাবে উঠছে ৫০-৬০ লাখ টাকা।

এ ছাড়াও নানা অনিয়মের বিপরীতে লেনদেন হয় আরও ৫ লাখ টাকার। এ জেলায় আরও ৫টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস রয়েছে। পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাবো ও রায়পুরা উপজেলা অফিস। এসব অফিস থেকে প্রতি মাসে সদর অফিসে যায় কমপক্ষে আরও ৩০-৪০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এক জেলা রেজিস্ট্রারের পকেটেই মাসে কমপক্ষে যাচ্ছে দেড় কোটি টাকা।

সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক জহির এসব লেনদেনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই। আমরা একরকম জিম্মি। ২০১৫ সালের পর থেকে সরাসরি কোনো দলে আমার সম্পৃক্ততা নেই। অফিস সহকারী (সেরেস্তাদার) আব্দুল বাছেদ মোল্লা ও পিয়ন মাহবুব সরকারি লোক। তাদের সঙ্গে বিতর্কে না জড়াতে নির্দেশনা রয়েছে জেলা রেজিস্ট্রারের। যা চায় তা-ই দিতে হয়। তাদের চাহিদা মেটাতে না পারলে দলিল সৃজন সম্ভব নয়।

সমিতির সদস্য সচিব দলিল লেখক মামুন ওই প্রভাবশালীর একনিষ্ঠ কর্মী। সমিতির নামে দলিল প্রতি দুই হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এই টাকা দিয়ে আমাদের অফিস ভাড়া, মৃত্যু-দাবিসহ অসহায় দলিল লেখকদের সহায়তা করা হয়। টাকা নেওয়ার বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে মামুন কোনো উত্তর দেননি।

তবে সেরেস্তাদার আব্দুল বাছেদের দলিল প্রতি আড়াই হাজার এবং পিয়ন মাহবুবের এক হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে মামুন বলেন, টাকা না দিলে এখানে কাজ করার সুযোগ নেই। সরজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রভাবশালী দলিল লেখক প্রতি মাসে শ্রেণি পরিবর্তন করে দু-চারটা দলিল করে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। সম্প্রতি শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারের ৬১ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ৫১টি দলিল সম্পাদন করেন সাসপেন্ডকৃত দলিল লেখক আওলাদ মোক্তার।

অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে সাসপেন্ড করা হয়। তার সঙ্গে দলিল লেখক চেয়ারম্যান মিঠু, মেম্বার জহির, মামুনসহ সমিতির প্রায় অধিকাংশ সদস্যই জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, আওলাদ মোক্তারের শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল করা থেকে আসা ৬১ লাখ টাকার ৪০ লাখই গেছে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারের পকেটে।
আওলাদ মোক্তার জানান, তিনি তার ভাগের টাকা ফেরত দিতে চাইলেও জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার তাকে নিজেদের ভাগের ৪০ লাখ টাকাও ফেরত দিতে চাপ দিচ্ছেন। অফিসের সাবেক পিয়ন সফিকের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

স্বাক্ষর জাল, পে-অর্ডারের টাকা নগদ গ্রহণ করে আত্মসাৎ, বালাম বইয়ের পাতা চুরিসহ নানা অনিয়মের কারণে সফিককেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার জায়গা এখন পিয়ন মাহবুবের দখলে। এসব বিষয়ে মাহবুবের সঙ্গে কথা বললে তিনি নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য দাবি করে বলেন, ‘আমি ছোট চাকরি করি।

এত অনিয়ম করার সুযোগ আছে?’ জেলা রেজিস্ট্রার তাকে স্নেহ করে জানিয়ে মাহবুব বলেন, স্যার কোনো কাজ দিলে তো না করা যায় না। অপরদিকে দেখা যায়, নরসিংদী জেলা রেজিস্ট্রারের সরকারি ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রারের নাম লেখা রয়েছে খন্দকার ফজলুর রহমান। মোবাইল নম্বর দেওয়া ০১৭১৫১৬০৮০৭। অথচ খন্দকার ফজলুর রহমান এ জেলায় নেই প্রায় তিন বছর হলো। গত তিন বছর ধরে এই জেলায় রেজিস্ট্রারের পদে আছেন আবুল কালাম মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর যোগদান করেন। তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তার আমলের সাব রেজিস্ট্রার নিহার রঞ্জন বিশ্বাস ও সফিকের কোটি টাকার অনিয়মের কথা স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিয়ন সফিকের ফাইল এখন দুদকে। তিনি আরও বলেন, ‘মাসে দেড় কোটি টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। অনেক কাজ করেছি বলে আমার মনোযোগ অন্য দিকে সরাতেই এখন ষড়যন্ত্র চলছে।

সরকারি ওয়েবসাইটে কেন তিন বছরেও তার নাম ও মোবাইল নম্বর উঠলো না জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, সারা দেশের জেলা রেজিস্ট্রারের ওয়েবসাইটগুলোর এমন অবস্থা। এটা হালনাগাদ করা তাদের দায়িত্বে পড়ে না।

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি! তানিম টিভি লি:  এর  সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের কিছু (জেলা ব্যতীত) সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ ও সাহসী কিছু পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইলে tanimtvltd.news1@gmail.com